ভোর পাঁচটায় ঘুম থেকে উঠে আমরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন দপ্তরের সামনে উপস্থিত। গাড়ি ছাড়বে সাড়ে পাঁচটায়। সবার চেহারাতেই যেন একটা আনন্দের ছাপ। কার না ভালো লাগে ভ্রমণ করতে। তারপর আবার নয়নাভিরাম সবুজে আচ্ছন্ন প্রকৃতির লীলাভূমির গিরি-পর্বতের দেশে। আমাদের গন্তব্য দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম জীববৈচিত্র্য সীতাকুন্ড ইকোপার্ক, বোটানিক্যাল গার্ডেন ও বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি, ভাটিয়ারি।
গাড়ি থেকে নেমে আমরা ট্রেনে উঠলাম। ট্রেন চলছে ঝিক্ ঝিক্ ঝিক্ আমাদের আড্ডাও চলছে ট্রেনের তালে তালে। ভুলেই গেছে আমরা আজ পাবলিক ট্রেনে। শাটল ট্রেন ভেবে আমরা ভাঙা গলায় ছেঁড়া গান ধরেছি। ছেঁড়া গান বলতে আমাদের কেউ গোটা একটা গান গাইতে পারে না। আশেপাশে লোকজন আমাদের দিকে বিরক্তের চোখে বার বার তাকাচ্ছে। আমরা গানে মশগুল। কে বিরক্ত হল, কার ভালো লাগলো সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়।
স্টেশন থেকে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও সীতাকুন্ড ইকোপার্ক প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে। ৯৯৬ একরের বিশাল এলাকা জুড়ে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম এ ইকোপার্ক। এখানে রয়েছে দুর্লভ প্রায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও জীবজন্তু এবং এই পার্কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে প্রাকৃতিক ঝরনা।
টিকেট নিয়ে আমরা সবাই ভিতরে ঢুকলাম। পুরো ইকোপার্কটিই একটা বিশাল পাহাড়ের ওপর। পর্যটকদের সুবিধার্থে ওপরে ওঠার জন্য পাকা রাস্তা রয়েছে। ওপরে উঠতে থাকলাম। আর পরিচিত হতে থাকলাম বিভিন্ন প্রজাতির নতুন সব বৃক্ষরাজির সাথে। গর্জন, ধামার, ডেউটা, নাগালীঙ্গম ও হলুদ গুটগুটিয়া। তাছাড়া সারি সারিভাবে সাজানো জয়তুন বৃক্ষ, বাঁশপাতা, ভেষজপাতাসহ বিভিন্ন প্রজাতির বিলুপ্ত প্রায় ফুল, ফল ও ঔষধি গাছের চারা। শালিক, টিয়া, ময়না ও শ্যামা পাখির কিচির-মিচির আমাদের মুগ্ধ করেছিল। শুনেছি এখানে হরিণ, ভাল্লুক, হনুমান ও বানরের মত অনেক জীবজন্তু থাকে। বোটানিক্যাল গার্ডেনে একটি চমত্কার অর্কিড হাউসও দেখলাম। এখানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতীর প্রায় ৫০ ধরনের অর্কিড রয়েছে।
বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক এলাকার মধ্যে দুটো ঝরনা রয়েছে। ঝরনা দুটো সহস ধারা ও সুপ্তধারা নামে পরিচিত। সহস ধারা থেকে অবিরত পানি ঝরছে। কিন্তু সুপ্তধারা থেকে শীতকালে খুব কম পরিমাণ পানি ঝরে, তবে বর্ষাকালে এগুলো তাদের পরিপূর্ণ ধারায় আবর্তিত হয়। আমরা গেলাম সহস ধারা ঝরনায়।
