আমাদের ক্যাম্পাস

উলানিয়া করোনেশন হাইস্কুল

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৩, ১৮:৪৩
সামনে বিস্তৃত সবুজ মাঠ। পেছনে তাল-সুপারির বনানী। একপাশে জলে টইটুম্বুর দীঘি। অন্যপাশে সাপের মতো এঁকেবেঁকে চলে যাওয়া খাল। আর মধ্যখানে মধ্যমণি হয়ে আছে একটি ‘ই’ আকৃতির স্থাপনা। প্রিয় উলানিয়া করোনেশন হাইস্কুল। হাজারো শিক্ষার্থীর প্রাণের বিদ্যাপীঠ। ১৯১২ সালে যাত্রা শুরু। আজও চলছে অবিরাম। স্কুলটির অবস্থান বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে। উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার উত্তরে। উলানিয়া জমিদার বাড়ি সংলগ্ন। এই স্কুলের অনেক শিক্ষার্থী বর্তমানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত। তাদের মধ্যে আছেন বাংলা সাহিত্যের শক্তিমান কবি আসাদ চৌধুরী, সাবেক সচিব গোলাম মোস্তফা তালুকদার, মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রব, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সাবেক ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, প্রখ্যাত আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুনসুর আহাম্মেদ, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহেআলম মুরাদ, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল খালেক হাওলাদার, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মো. আরিফ হোসেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মো: এনামুল হক প্রমুখ। স্কুলের এ ঐতিহ্যের পেছনে রয়েছে অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলীর প্রচেষ্টা, পরিচালনা পরিষদ ও এলাকার অভিভাবকদের সহযোগিতা। বর্তমানে প্রধান শিক্ষক মো: হেলাল উদ্দীনের পরিচালনায় একদল দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকার স্নেহের পরশে ছাত্রছাত্রীরা অধ্যয়নরত আছে। একটা খারাপ সংবাদ দিয়ে শেষ করছি। এই স্কুলের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে সর্বনাশা মেঘনা নদী। সাত বছর আগে উলানিয়া স্কুল থেকে মেঘনার দূরত্ব ছিল ছয় কিলোমিটার। এখন তা দশমিক ১৫ কিলোমিটার। তাহলে কি হারিয়ে যাবে উলানিয়া স্কুল? আব্দুর রহমান ১০ম শ্রেণি, রোল নং-১ ১৯১২ সাল থেকে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করে অনেকে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিষ্ঠানটি সামনের দিকে আরো সুনামের সঙ্গে ভালো ফলাফলে অবদান রাখবে এটা আমার প্রত্যাশা। আমি আমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দেশের প্রথম সারির উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে দেখতে চাই। কামরুল ইসলাম ৯ম শ্রেণি, রোল নং-১ বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে কম্পিউটার শিক্ষা গ্রহণ করা খুবই জরুরি। আমি চাই আমাদের বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাবে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকুক। যার মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবাগুলো পেতে সহজ হবে। আমার বিদ্যালয়টি ভালো ফলাফলের ধারা অব্যাহত রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। আমি চাই বিদ্যালয়টি দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। কামরুল ইসলাম ৯ম শ্রেণি, রোল নং-২ আমি আমার বিদ্যালয়ে ক্যান্টিন, ফুল বাগান, পাঠাগার ও বিজ্ঞানাগারের আরো উন্নয়ন চাই। এছাড়া প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও শিক্ষা সহায়ক পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে একটি আদর্শ বিদ্যালয় হিসেবে দেখতে চাই। সেই সাথে বিদ্যালয়টি এই অঞ্চলের সেরা স্কুল হিসেবে গড়ে উঠুক। যাতে করে আমরা আমাদের এই স্কুলকে নিয়ে গর্ব করতে পারি। সাইদুল ইসলাম ৮ম শ্রেণি, রোল নং-১ আমি আমার বিদ্যালয়টি সব দিক থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেখতে চাই। শিক্ষা, বিনোদন, সাহিত্য-সংস্কৃতি, খেলাধুলাসহ সকল দিক থেকে সমভাবে কৃতিত্বের সঙ্গে এগিয়ে যাক এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ সৃষ্টির মাধ্যমে দেশ ও জাতি গঠনে শিক্ষার্থীরা অবদান রাখুক এটাই আমার প্রত্যাশা। আমি এই বিদ্যালয়টিকে মেহেন্দিগঞ্জবাসীর অহংকার হিসেবে দেখতে চাই। মোঃ আনোয়ার হোসেন ৭ম শ্রেণি, রোল নং-১ ফলাফলের দিক থেকে আমাদের স্কুল সব সময় ভালো করে। আমরা বিদ্যালয়টিকে সব সময় ভালো ফলাফলের সেরা বিদ্যালয় হিসেবে দেখতে চাই। সেই সাথে বিদ্যালয়ের সকল ধরনের সামাজিক কর্মকান্ড ও খেলাধুলার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিক্ষা সফর প্রভৃতি কর্মকান্ড দেখতে চাই। নিয়মিত বিতর্ক চর্চার দাবি জানাই। মো. হেলাল উদ্দীন প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সুনামের সঙ্গে সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করে যাচ্ছে। এটি মেহেন্দিগঞ্জের ছেলে-মেয়েদের অন্যতম বিদ্যাপীঠ হিসেবে পরিচিত। স্কুলের কাছেই মেঘনা নদী। আশঙ্কায় আছি কখন ছোবল দেবে সর্বনাশা মেঘনা। আশা করছি সরকার স্কুলের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেবে। নতুন করে স্কুলের ভবন নির্মাণ করার সর্বাত্নক সহায়তা পাবো। সরকারের কাছ থেকে এসব সহযোগিতা পেলে বিদ্যালয়টি দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা সম্ভব হবে। বিদ্যালয়টির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও সাধারণ জ্ঞান চর্চার মাধ্যমে প্রতিভা বিকাশের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়।