উদ্ভাবন

যে রোবট মহাশূন্যে ছবি পাঠাবে

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৩, ১৮:৪৩
আনিসুর রহমান। পড়াশোনা করছেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স বিভাগে। আনিস স্বপ্ন দেখতো একদিন একটা রোবট বানাবেন। দীর্ঘ সাধনার পর আনিসের স্বপ্ন আজ পূরণ হয়েছে। আনিস বলেন, প্রায়ই ভাবতাম যদি একটি রোবট বানাতে পারতাম! যে রোবট মানুষের মতই হাঁটতে পারে, কথা বলতে পারে। এমন রোবট বানানো কি খুব কঠিন কাজ? এ প্রশ্নের উত্তরও খুঁজতাম। সিদ্ধান্ত নিলাম রোবট আমি বানিয়েই ছাড়বো। শুরু করে দিলাম কাজ। শুরুটা ছিল হতাশার। কোনোভাবেই কুল-কিনারা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। প্রোগ্রামিংয়ে যে আমি খারাপ তা নয়, তবে গাণিতিক বিষয় মাথায় রেখে কাজ করাটা কঠিন। এছাড়া প্রয়োজন জ্যামিতিক হিসাব নিকাশ। নেমে পড়লাম জ্যামিতিক নানা সমস্যার সমাধান নির্ণয়ে। একসময় সমস্ত বাধা পেরিয়ে স্বপ্নের রোবটকি আর্ম এএসআর কে-২৫০ (ASR k-250) তৈরি করে ফেললাম। এ মডেলের রোবট ব্যবহার করে আমরা ঘরের ছোটখাটো কাজ যেমন- এক ঘর থেকে আরেক ঘরে পাঠানো, রান্নঘর থেকে বিভিন্ন রকম জিনিস নিয়ে আসা, রান্নায় সাহায্য করা, টেলিভিশন, এসি, ফ্রিজ অন-অফ করা ইত্যাদি করতে পারবে। এছাড়া পৃথিবীতে ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবেলায় বন্ধুর মত সাহায্য করতে পারবে। এএসআর কে-২৫০ কারখানার ভারি জিনিসপত্র উঠানো-নামানোসহ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নেয়ার কাজও করানো সম্ভব। এই রোবট এর উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম কাজ হলো এটা আমরা মহাশূন্যে পাঠিয়ে বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপ সংগ্রহ করতে পারবো। এছাড়া এটাকে দিয়ে মহাশূন্যে যে সমস্ত নুড়ি পাথর আছে সেগুলো সংগ্রহ করে আমরা বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাতে পারবো। রোবট তৈরির কাজ যখন করছি তখন আমার প্রিয় শিক্ষক আলিমূল হক খান স্যারের সহযোগিতা না পেলে কিছুই সম্ভব হতো না। অন্যদিকে আমাদের উদ্ভাবনকে সবসময় উত্সাহিত করেছেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির কো-অডিনেটর কাজী তাইফ সাদাত। তাদের দু’জনের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।