একমাসে ডিএসই’র গড় লেনদেন ১৬৬ কোটি টাকা

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:০৪
কয়েক মাস আগেও যেখানে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গড় লেনদেন ছিল পাঁচ থেকে ছয়শ’ কোটি টাকা সেখানে গেল মাসে গড় লেনদেন হয়েছে মাত্র ১৬৬ কোটি টাকা। দুই বছর আগেও বাজারের লেনদেন ছিল আড়াই থেকে তিন হাজার কোটি টাকার উপরে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে ডিএসই’র খরচ সামলানোর জন্য অন্তত সাড়ে তিনশ’ কোটি টাকা লেনদেন হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে ক্ষতির শিকার হতে হয়। এদিকে বাজারে লেনদেন কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে আস্থা ও তারল্য সঙ্কটের পাশাপাশি রাজনৈতিক অস্থিরতাকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, বাজারে ব্যাংকসহ প্রায় সব প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ কমিয়ে দেয়ায় তারল্য সঙ্কট রয়েছে। তার উপর যোগ হয়েছে আস্থার সঙ্কট। ফলে বাজার ইতিবাচক হতে পারছে না। তথ্যে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসই’র ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) ৪৫ পয়েন্ট বেড়ে ৩ হাজার ৫০৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর সাধারণ মূল্যসূচক বেড়েছে ৪৪। ডিএসই-৩০ মূল্যসূচক ১৯ পয়েন্ট বেড়েছে। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১৩০ কোটি ৫০ লাখ ৭ হাজার ৮৫৫ টাকা। যা আগের দিনের চেয়ে ৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা কম। লেনদেনকৃত ২৬৭টি কোমপানির মধ্যে দাম বেড়েছে ২২৪টির, কমেছে ৩১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১২টি কোম্পানির শেয়ারের। এদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সূচকেও বড় ধরনের পতন হয়েছে। গতকাল সিএসই’র সার্বিক মূল্যসূচক ১৫৮ পয়েন্ট বেড়ে ১০ হাজার ৯১৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর সিএসই-৩০ মূল্যসূচক বেড়েছে ১৭০ পয়েন্ট। সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ৯১ লাখ ২৫ হাজার ৭৮৫ টাকা। যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় দুই কোটি টাকা কম। লেনদেনকৃত ১৭১টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১২৬টির, কমেছে ৩২টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৪টি কোম্পানির শেয়ারের দর। আইডিএলসি’র দৈনন্দিন বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গতকাল বাজারে দর বৃদ্ধির ক্ষেত্রে শীর্ষে ছিল বস্ত্রখাত। এ খাতের কোম্পানিগুলোর দর বেড়েছে ১ দশমিক ৮০ শতাংশ। এছাড়া টেলিকমিউনিকেশন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দর বেড়েছে ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। তবে জীবন বীমা খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের বড় রকমের দরপতন হয়েছে। তবে ডিএসইর সূচক তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে আসায় গতকাল বাজারে কিছুটা ক্রয়ের প্রবণতা বেড়েছে। ফলে সূচক বেড়েছে। তবে আস্থার অভাব থাকায় লেনদেন বাড়েনি।