পেশা কিংবা নেশা; কারণ যাই হোক না কেন কম্পিউটার বা ইন্টারনেটে একটু বেশি সময় কাটানো যাদের অভ্যাস তাদেরকে নানা সময়ই নানা ধরনের ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয়। কখনও বা অভিভাবকদের আপত্তি আবার কখনও বা অন্যদের বিরক্তির কারণে হলেও ইন্টারনেট আসক্তি থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হয় এই দলের ব্যক্তিদের। বিশেষ করে, ইন্টারনেটে সময় কাটানোর কারণ যদি হয় স্রেফ অনলাইনে গেম খেলা তাহলে সেটির পক্ষে দাঁড়ানোর লোক খুঁজে পাওয়াই দুস্কর হয়ে দাঁড়ায়। তবে শুনতে অদ্ভুতুরে শোনালেও সত্য যে এই অনলাইন গেমসকেই নিজের জীবন ও জীবিকা বানিয়ে ফেলেছেন উত্তর চীনের জিলিনের এক বাসিন্দা। লি মেং নামের ৩০ বছর বয়সী এই তরুণের গত ছয় বছরের প্রতিটি মুহূর্তই কেটেছে একটি সাইবার ক্যাফেতে। এই দীর্ঘ সময়ে খাওয়া, ঘুম আর প্রাত্যহিক সকল কাজই লি সেরেছেন সাইবার ক্যাফের চৌহদ্দিতেই। সাধারণত সারা রাত অনলাইন গেম খেলার পর সকালে কম্পিউটারের সামনেই ঘুমিয়ে নিতেন লি মেং। এর বাইরে ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে শুধুমাত্র বাথরুমে যাওয়া বা গোসল করার সময়ই কম্পিউটার স্ক্রিনের সামনে থেকে উঠে যেতেন লি মেং। এমনকি তার খাবারের সময়টাতেও এখানেই খাবার সরবরাহ করা হতো লি মেংকে। আর এভাবে প্রথম দিকে শখের বসে অনলাইনে নানা ধরনের গেম খেললেও একসময় এটিকেই নিজের জীবিকা বানিয়ে ফেলেন লি। বর্তমানে নানা ধরনের অনলাইন গেমিং টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে মাসে গড়ে ২০০ পাউন্ডের মতো উপার্জন করেন লি। অন্যদিকে প্রতি মাসে সাইবার ক্যাফের একটি টেবিল ও কম্পিউটার বিরতিহীনভাবে দখলে রাখার জন্য তাকে দিতে হয় ৬০ পাউন্ড করে। এ প্রসঙ্গে সাইবার ক্যাফে ম্যানেজার সান ওয়াং জানান, দীর্ঘ ছয় বছর ধরে একটানা সাইবার ক্যাফের একটি আসন দখল করে রাখলেও কখনও কোনো ধরনের সমস্যা করেননি লি। কম্পিউটারের কারিগরি সমস্যা দেখা না দিলে বা কোনো কিছু খাবার প্রয়োজন না হলে লি কখনোই ক্যাফের কাউকে ডাকাডাকি করতেন না বা কোনো ধরনের বাড়তি কথাও বলতেন না। তা ছাড়া দিনে রাতে কম্পিউটারের সামনে ঘুমানোই হোক কিংবা ইন্টারনেট ব্যবহারই হোক না কেন সব সময়ই মাসের পুরো সময়ের জন্য বিল পরিশোধ করে আসছেন লি এবং এ বিষয়েও কখনও ক্যাফের লোকদের সাথে কোনো ঝামেলায় জড়াননি লি মেং। সবমিলিয়ে তার ব্যবসার জন্য লি মেং কে বড় এক আশীর্বাদ বলেই অভিহিত করেন ক্যাফে ম্যানেজার সান ওয়াং।
