গোদাগাড়ীর চরে স্বাস্থ্য সেবা ভেঙে পড়েছে

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:৫৮
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র না থাকায় চরের মানুষ স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিত্সা থেকে বঞ্চিত। একটি বেসরকারি সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নে বসবাসকারী ৫ হাজার পরিবারের মধ্যে সাড়ে ৪ হাজার পরিবার দারিদ্র্যসীমার মধ্যে জীবনযাপন করছে। এসব দরিদ্র মানুষের অর্থ দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিত্সা পাওয়ার কোন সামর্থ্য নেই। স্থানীয় লোকজন জানান, স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিত্সা পাওয়ার জন্য ৩ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে পদ্মানদী পার হয়ে আরও ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (প্রেমতলী) যেতে হয়। ব্যাপক দুর্ভোগের ভয়ে লোকজন একসময় ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলা ও লালগোলায় চিকিত্সার জন্য যেত। কিন্তু ২০০৫ সালের দিকে সীমান্ত এলাকায় ভারত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করায় চর আষাড়িয়াদহের লোকজন ভারতে আর যেতে পারে না। চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের কানাপাড়া, ভুবনপাড়া, মানিকচকে মা ও শিশু স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্রসহ ২টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এই তিনটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধ সরবরাহ নেই। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক না থাকার কারণে কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিত্সা পাচ্ছে না লোকজন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, কানাপাড়া মা ও শিশু স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্রে একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসারসহ ২ জন কর্মচারী ও কমিউনিটি ক্লিনিক ২টিতে ২ জন স্বাস্থ্য সহকারীসহ ২ জন কর্মচারী রয়েছে। মা ও শিশু স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্রটিতে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩শ’ জন পর্যন্ত রোগী চিকিত্সার জন্য আসেন। কিন্তু কর্মরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়মিত আসেন না। গত ১৯ মার্চ সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি রোগীকেই শুধুমাত্র প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, রাজশাহী সিভিল সার্জন অফিস থেকে চর আষাড়িয়াদহ মা ও শিশু স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্রে যে পরিমাণ ওষুধ সরবরাহ করা হয় তা দিয়ে ৮শ’ রোগীকে ওষুধ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় রোগীদেরকে অল্প পরিমাণে করে ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে প্রতিমাসে প্রায় ৬ হাজার রোগী চিকিত্সা নিতে আসে। সাড়ে ৫ হাজার রোগী দরিদ্র হওয়ায় এসব রোগীকে সরকারিভাবে ওষুধ সরবরাহ করার দাবি জানান স্থানীয় লোকজন। এদিকে গোদাগাড়ী উপজেলায় ৮টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে বাসুদেবপুর ইউনিয়নে ২টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র। অথচ এই ইউনিয়নটিতে জনসংখ্যা অত্যন্ত কম। আর রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের পার্শ্বের ইউনিয়ন হওয়ায় বাসুদেবপুর ইউনিয়নের লোকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিত্সা পাওয়া অত্যন্ত সহজ। চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করা প্রসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌফিকউদ্দিন বলেন, চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।