দেশের প্রতিরক্ষা খাতে পরমাণু অস্ত্রকে আরো বেশি অগ্রাধিকার দিতে একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে উত্তর কোরিয়ার পার্লামেন্ট। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে টান টান উত্তেজনার মধ্যে দেশটি এ পদক্ষেপ নিল। উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টি পরমাণু শক্তি ‘গুণগত ও পরিমাণগতভাবে আরো জোরদার’ করার ঘোষণা দেয়ার পরপরই এ উদ্যোগ এল। পরমাণু পরীক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ায় ক্ষুব্ধ উত্তর কোরিয়া গত শনিবার দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে “যুদ্ধাবস্থায়” প্রবেশ করার ঘোষণা দেয়। ওদিকে দক্ষিণ কোরিয়াও এর প্রতিক্রিয়ায় সোমবার বলেছে, আক্রান্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর পাল্টা জবাব দেয়া হবে উত্তর কোরিয়াকে। উত্তর কোরিয়া সোমবার সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলির দিনব্যাপী বার্ষিক অধিবেশন ডাকে। এ অধিবেশনে সাধারণত অর্থনৈতিক বিষয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টিই প্রাধান্য পায়। কিন্তু এবারের অধিবেশনের ব্যাপারে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, “পার্লামেন্ট সর্বসম্মতিক্রমে দেশের প্রতিরক্ষায় পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচিকে আরো বেশি অগ্রাধিকার দিয়ে একটি অধ্যাদেশ গ্রহণ করেছে।” এতে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র “প্রতিরক্ষার একটি উপায়”। বিশ্ব পরমাণু অস্ত্রমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত “আগ্রাসী ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা প্রাণঘাতী আঘাত হানার উদ্দেশ্য সাধনে এ অস্ত্র কাজে আসবে।” এর আগে রবিবার উত্তর কোরিয়ার ওয়ার্কার্স পার্টি সেন্ট্রাল কমিটি উচ্চপর্যায়ের এক বিরল বৈঠকে পরমাণু অস্ত্রকে ‘জাতির প্রাণ’ বলে অভিহিত করে। ওই বৈঠকেই উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র সক্ষমতার অধিকারকে আইনবলে সুদৃঢ় করা এবং পরমাণু অস্ত্র বাহিনীকে গুণগত ও পরিমাণগত দিক দিয়ে আরো বাড়ানো এবং শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করা হয় বলে জানায় কেসিএনএ।
