স্বস্তি আর অর্জন নিয়ে ফেরা

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৩, ২২:০১
শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে যেন ফিরে এলো ঠিক একযুগ আগের এরকম একটা দিন। এরকমই এক দিনে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ টেস্টে সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে এই শ্রীলঙ্কা থেকে দেশে ফিরেছিলেন; অভিনন্দন আর ফুলে ফুলে ভেসে গিয়েছিলেন তিনি। ১২ বছর পর কাল আবার সেই শ্রীলঙ্কা থেকে বিমানবন্দরে নেমেই ফুলের তোড়া হাতে নিয়ে সেই হাসিতে ফেটে পড়লেন বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিভাধর ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ আশরাফুল! এই ১২ বছরে আশরাফুল কখনোই তার প্রতিভার সমপরিমাণে ধারাবাহিক হতে পারেননি। বরাবরের মতো এবারও ‘অবশেষে ধারাবাহিক’ হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলে ডাক পেয়ে। সেটা পারবেন কি না; সময় বলবে। তবে আশরাফুল শুরুটা আবার করে দিয়েছেন সেই শ্রীলঙ্কা সফর থেকেই। ১৯০ রানের এক ইনিংস খেলে আরেকবার নিজেকে চিনিয়েছেন। আশরাফুল বিরাট হাসি দিয়ে বললেন, শুধু তিনি নন, পুরো বাংলাদেশই এই সফরে নিজেদের অন্যভাবে চিনিয়েছে। পুরো দলের পাশাপাশি আশরাফুলকে নিজেকে নিয়ে কথা বলতে হল। ফর্ম খরার কারণে জাতীয় দল থেকে দেড়বছর ধরে ছিটকে পড়েছিলেন আশরাফুল। এই সিরিজে সেই ফর্ম খরা কেটেছে। তাই কাল বিমানবন্দরে নেমে বললেন, ‘আমারও ইচ্ছা ছিল ভালো করার। আগের তুলনায় অবশ্যই ভালো লাগছে। আশা করছি এই ধারাবাহিকতা জিম্বাবুয়ে সিরিজেও থাকবে’। ধারাবাহিকতার কথা এলে তরুণ নাসির হোসেনের আশেপাশে কেউ নেই। ধারাভাষ্যকাররা এরই মধ্যে ‘মিস্টার কনসিসটেন্ট’ বলে ডাকতে শুরু করেছেন। শুধু ধারাবাহিকতা নয়; নাসিরের জন্য সফরটার আরও তাত্পর্য আছে। এই সফরেই প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি পেয়েছেন আগে দু’বার নব্বইয়ের ঘরে আউট হওয়া নাসির। সে প্রসঙ্গ উঠতে বললেন, ‘সেঞ্চুরির স্বপ্ন সবারই থাকে। এর আগে চেষ্টা করেছি কিন্তু পায়নি। এবার হয়েছে। আমি সেঞ্চুরি করে খুশি’। একইরকম খুশি জাতীয় দলে আসার পর থেকে সাফল্য আর সাফল্য দেখতে থাকা মোমিনুল। প্রথমবারের মত আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে বিদেশে গিয়েছিলেন তিনি। তার এই সফরে বাংলাদেশও পেয়েছে দারুণ কিছু অর্জন। দলের সাথে এই অর্জন নিজের সাথেও ভাগাভাগি করতে পারছেন তিনি। তাছাড়া অধিনায়ক মুশফিকের কাছ থেকেও পেয়েছেন প্রশংসা। সবকিছু মিলে এই সফরটি তার সেরা একটি সফর হিসেবেই স্মৃতির পাতায় ঠাঁই পাবে বলে কাল বিমানবন্দরে নেমে জানালেন। তবে শুধু শ্রীলঙ্কা নয়, সুযোগ পেলে জিম্বাবুয়ে সফরেও নিজেকে মেলে ধরতে চান তিনি। শ্রীলঙ্কায় দলগত পারফর্মেন্সের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্জনও হয়েছে বাংলাদেশের। মুশফিকের ডাবল সেঞ্চুরি, আশরাফুলের ১৯০ রান, পাশাপাশি বল হাতে রাজ্জাকের ওয়ানডেতে দুশো উইকেট অর্জন। আব্দুর রাজ্জাকের স্মৃতির পাতায়ও এই সফরটি বড় করে লেখা থাকবে। এই সিরিজে তিনি উঠে গেছেন দুশো উইকেটের মাইলফলকে। কথাটি আবার মনে করিয়ে দিতে রাজ্জাকও হাসলেন, ‘দেখুন আমি চেষ্টা করেছি দলকে কিছু দিতে। দুশো উইকেটের কথা মাথায় ছিল না। শুরু থেকে জায়গামত বল ফেলার চেষ্টা করেছি। ব্যস, এভাবেই পাঁচ উইকেট নিয়েছি আর দুশো উইকেটের মাইলফলকে পা দিয়েছি। যদিও পাঁচ উইকেট নেয়া সহজ কাজ নয়’। আসলেই পাঁচ উইকেট নেয়া সহজ কাজ নয়, কিন্তু প্রতিপক্ষকে রান দেয়াটা নিশ্চই সহজ? কথা উঠেছে, টি-টোয়েন্টির প্রথম ওভারেই শাহাদাত হোসেনের বলে শ্রীলঙ্কা পেয়েছে ১৪ রান। তার নিজের শেষ ওভারে দিয়েছেন ২৬ রান! অনেকেই মনে করছেন বাংলাদেশের পরাজয়ের পেছনে শাহাদাতের এই দুই ওভার দায়ী। কথাটি শুনে একটু বিরক্ত শাহাদাত। বললেন, ‘প্রথম ওভারে কোন সুইং দেয়া যায় না। এমনকি ইর্য়কারও দেয়া যায় না। কিন্তু তারপরও তারা রান পেয়েছে। আর শেষ ওভারটি দলের পরিকল্পনা মতই করেছি। আর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানরা মারবেই’। শাহাদাতের এই কথাতেও কেউই বিরক্ত হবে না। কারণ সবকিছু মিলে এই সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য অনেক অর্জনের সিরিজ।