এবার দিনাজপুরে পুলিশের মাথা থেঁতলে দিল পিকেটাররা

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩০
রাজশাহীর পর এবার দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) একজন উপপরিদর্শকের মাথা থেঁতলে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। তার নাম আবদুস সবুর (৪৫)। পৃথক ইস্যুতে গতকাল মঙ্গলবার বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দল ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের ডাকা হরতালের সমর্থনে মাঠে নামা পিকেটাররা লাঠি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে সাদা পোশাকে থাকা নিরস্ত্র ওই পুলিশ কর্মকর্তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ থেঁতলে দেয়। চিরিরবন্দর উপজেলার হাজী মোড় নামক স্থানে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পিকেটাররা রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা করে নাশকতা চালানোর সময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে দু’পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশের ১৯ সদস্যসহ মোট ৪২ জন আহত হন। সেই সময়েই পিকেটারদের নৃশংস হামলার শিকার হন এসআই সবুর। সংঘর্ষ চলাকালে আতঙ্কিত হয়ে দৌড় দিতে গিয়ে হূদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে আজিম উদ্দিন (৫৭) নামে স্থানীয় এক সাইকেল মেকানিক মারা যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও গুলিবর্ষণ করে। গুরুতর আহত সবুরকে প্রথমে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও পরে অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. এটিএম জিল্লুর রহমান জানান, এস আই সবুরের অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিরিরবন্দর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) তারিকুল ইসলাম জানান, হরতালের সমর্থনে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চিরিরবন্দর উপজেলার হাজী মোড় নামক স্থানে দিনাজপুর-পার্বতীপুর পাকা রাস্তায় পিকেটাররা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যানবাহনে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের মতো নাশকতা শুরু করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের ক্যাডারদের বাধা দিলে তারা পুলিশের উপর ককটেল বিস্ফোরণ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এ সময় সাদা পোশাকে থাকা পুলিশের বিশেষ শাখার এসআই আব্দুস সবুর ও কনস্টেবল শাহাদত হোসেন (৪৮) গুরুতর আহত হন। এছাড়া পরিদর্শক তারিকুল ইসলামসহ ১৭ জন পুলিশ সদস্য এবং ২৩ জন পথচারী আহত হয়। পিকেটাররা এসআই সবুরকে মটর সাইকেল থেকে নামিয়ে এলোপাতাড়ি মেরে তার মাথা থেতলে দেয়। তারা তার মটর সাইকেলটি পুড়িয়ে ফেলে। স্থানীয় সূত্র জানায়, সংঘর্ষ চলাকালে হাজী মোড় এলাকায় সাইকেল মেরামতের কাজ করেন, আজিম উদ্দিন নামে এক বৃদ্ধ আতঙ্কিত হয়ে তার দোকান বন্ধ করে নিরাপদ স্থানের উদ্দেশ্যে দৌড় দেন। এতে হূদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান বৃদ্ধ। ওসি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৫৯টি রাবার বুলেট, ১৭টি টিয়ার শেল এবং শট গানের ১৩টি গুলি ছোঁড়ে। নাশকতা বা পুলিশের ওপর হামলা চালানোর ঘটনায় গতকাল রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। পুলিশ মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান ওসি। দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার দেবদাস ভট্টাচার্য ইত্তেফাককে জানান, আহত এস আই আবদুস সবুরের বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলায়। সংসারে তার স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়ে রয়েছে। প্রসঙ্গত, গত সোমবার রাজশাহী শহরের শালবাগান মোড়ে ছাত্রশিবিরের সন্ত্রাসীরা পুলিশের এসআই জাহাঙ্গীর আলমের উপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ থেঁতলে দেয়। আগের দিন রাজশাহীতেই শিবিরের ককটেল হামলায় পুলিশের শিক্ষানবিস এসআই মকবুল হোসেনের দুই হাতের কবজি উড়ে যায়। তারা দুজনেই বর্তমানে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিত্সাধীন।