হরতালে ককটেল বোমা বেশি চলে! বিক্রি করলে বেশি লাভ! তাই বোমার কারিগর মিরাজ হোসেন (১৯) নেমে পড়েন বোমা ব্যবসায়। গত কয়েক বছর ধরেই হরতালে শ্যামপুর এলাকাসহ আশপাশ এলাকায় বোমা তৈরি করে বিক্রি করতো সে। বিধি বাম শেষমেশ গোয়েন্দা সদস্যদের কাছে বিক্রি করতে গিয়ে আটক হতে হয়েছে তাকে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শ্যামপুর থানাধীন জুরাইন মাজারের সামনে থেকে সাতটি শক্তিশালী বোমাসহ ক্রেতা ছদ্মবেশী র্যাব-১০-এর সদস্যরা তাকে আটক করে। পরে তাকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
আটককৃত বোমা ব্যবসায়ী মিরাজ জানায়, ঢাকা শহরের বিভিন্ন সন্ত্রাসীর কাছে সে বোমা সাপ্লাই দিয়েছে। সন্ত্রাসীরা অর্ডার দিলে সে বাসায় বোমা তৈরি করে তা বাজারের ব্যাগে ভরে ওইসব সন্ত্রাসীর কাছে সরবরাহ করতো। মিরাজ আরো জানায়, হরতালের ঘোষণা হলে তার কাছে বোমার অর্ডার আসে বেশি। অর্ডার অনুযায়ী সে হরতালের আগের দিন বোমা সরবরাহ করতো।
র্যাব-১০-এর মেজর তৌফিক জানান, মঙ্গলবার দুপুর সোয়া বারোটার দিকে শ্যামপুর জুরাইন মাজার গেট এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৭টি শক্তিশালী বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তিনি আরো জানান, মিরাজ দীর্ঘদিন থেকেই প্রতি হরতালে শ্যামপুর এলাকাসহ আশপাশ এলাকায় বোমা তৈরি করে বিক্রি করতো। মিরাজকে আটক করার জন্য র্যাব সদস্যদের আনেক বেগ পেতে হয়েছে। সবশেষে গত এক সপ্তাহ আগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য মিরাজের সঙ্গে যোগাযোগ করে র্যাবের গোয়েন্দারা। বেশ কিছু টাকা আগামও দেয়া হয় তাকে। চুক্তি অনুযায়ী মিরাজের জুরাইন মাজারের সামনে বোমা এবং বোমা তৈরির সরঞ্জাম সরবরাহের কথা ছিলো। দুপুর সোয়া বারোটার দিকে একটি ব্যাগে সাতটি শক্তিশালী বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম পুঁইশাক দিয়ে ঢেকে মাজারের সামনে আ?সামাত্রই মিরাজকে গ্রেফতার করে র্যাব সদস্যরা।
