সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের যে রায়টি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ দিয়েছে তা আইনের দৃষ্টিতেই গ্রহণযোগ্য নয়। আপিল বিভাগের রুলস এবং বিভিন্ন রায়ের নির্দেশনা লংঘন করে এ রায় দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এছাড়া বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক বিচারকের আসনে না থেকেও এ রায়ে স্বাক্ষর করেছেন। ১৬ ডিএলআরে প্রকাশিত কাজী মাহির দীন বনাম মুরাদ বেগম গং মামলার আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী কর্মরত না থাকলে রায়ে স্বাক্ষর করার অধিকার কোন বিচারকের নেই। গতকাল মঙ্গলবার আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে সমিতির সভাপতি এসব কথা বলেন।
অ্যাডভোকেট জয়নুল বলেন, দেশের মানুষ পূর্ণাঙ্গ রায়ের জন্য অপেক্ষা করছিলো। কিন্তু সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক ও অন্যান্য বিচারপতি ২০১২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বরের পূর্বে উক্ত রায় লিখতে ও স্বাক্ষর করতে পারেননি। সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে বহাল রাখার লক্ষ্যে বিচারপতি খায়রুল হক দেশের প্রচলিত আইন ও আপিল বিভাগের রুলস ১৯৮৮ এর ১০(১)(২) এর সুস্পষ্ট লংঘন করে রায়ের মূল অংশের বিভিন্ন মূল আদেশের অংশ (অপারেটিভ পার্ট) ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, বিচারপতি খায়রুল হক প্রধান বিচারপতির শপথ থাকাকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার মামলার রায়ের প্রথম অপারেটিভ পার্ট ঘোষণা করেছিলেন। পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ রায় লেখা এবং স্বাক্ষরের সময় তার শপথ ছিলো না। ফলে তার প্রদত্ত রায় কোন রায় হিসাবেই গণ্য করা যায় না। তিনি বলেন, বিচারপতি খায়রুল হক ৭ জন অ্যামিকাসকিউরির মতামত উপেক্ষা করে রাজনৈতিক প্রভাবে প্রভাবান্বিত হয়ে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে রায় দিয়েছেন, সেই কারণে দেশ আজ ভয়াবহ সংকটে পতিত হয়েছে।
তিনি বলেন, অতীতে দেশের সিনিয়র আইনজীবীদের মতামত কখনো এইভাবে উপেক্ষিত হয়নি, যা এই রায়ে হয়েছে। দেশের বর্তমান এই সংঘাত, প্রাণহানি, ভাংচুর, গণতন্ত্র ও বিচার ব্যবস্থার মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সবকিছুর জন্য বর্তমান সরকার ও বিচারপতি খায়রুল হক সম্পূর্ণরূপে দায়ী। এই রায়কে পুঁজি করে সরকার গণতন্ত্রকে নস্যাত্ এবং ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। দেশের মানুষ আজ প্রতিটি মুহূর্ত অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটাচ্ছে। সংঘাত, প্রাণহানি দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
