এক হাজার গাড়ির বিশাল বহর নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অভিমুখী লংমার্চ যাত্রা শুরু করবে আগামী ৫ এপ্রিল বিকালে। ট্রেনে করেও হেফাজতের কর্মী-সমর্থকরা ঢাকায় পৌঁছাবে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর-দক্ষিণ জেলা ছাড়াও কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি জেলা থেকেও বিপুল সংখ্যক ওলামা-মাশায়েখসহ সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ হেফাজতের কাফেলায় অংশ নেবে। লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে জনসাধারণসহ সর্বমহলে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা বিরাজ করছে।
হেফাজতে ইসলাম নেতৃবৃন্দ গতকাল মঙ্গলবার হাটহাজারীতে লংমার্চ নিয়ে সার্বিক প্রস্তুতি বৈঠক করেছে। সূত্র জানায়, হেফাজতে ইসলাম তাদের লংমার্চ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বিষয় জানালেও অনেক কিছুই প্রকাশ করছে না। লংমার্চ সুষ্ঠুভাবে ঢাকায় পৌঁছানোর ব্যাপারে হেফাজত নেতৃবৃন্দের মধ্যেও দ্বিধা-দ্বন্দ্ব রয়েছে। তাই তারা আগ থেকেই বলে রাখছেন, যেখানেই বাধা সেখানেই প্রতিরোধ। লংমার্চের কাফেলা ছাড়াও বিচ্ছিন্নভাবে ঢাকায় পৌঁছানোর টার্গেট রয়েছে তাদের।
ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি লংমার্চ উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে থাকছে শৃঙ্খলা ও স্বেচ্ছাসেবক উপ-কমিটি, বিশাল বহরের লোকজনের খাওয়া, তাদের ঢাকায় অবস্থান এবং আবার ফিরে আসার ব্যাপারেও গতকালের প্রস্তুতিমূলক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তৌহিদী জনতার যে গণজাগরণ দেশব্যাপী সৃষ্টি হয়েছে তা কেউ রুখতে পারবে না।
এদিকে লংমার্চ কর্মসূচিতে প্রশাসনসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা কী হবে তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিজেদের উদ্যোগে প্রাথমিক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা যায়। কারণ হেফাজতে ইসলামের লংমার্চের গাড়িবহর এবং নেতৃবৃন্দ কোন পথে কিভাবে যাচ্ছেন তা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। তাই সব কিছুই হেফাজতে ইসলামের পরিকল্পনার ভিত্তিতে নেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্রে জানা যায়।
হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, তারা আল্লাহ ও রসুল (সা.)-এর আইন বাস্তবায়নের জন্য লংমার্চ করছেন। কোনো প্রকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন তাদের কর্মসূচি নয়। হেফাজতে ইসলাম কোনো রাজনৈতিক দল নয়। হেফাজতে ইসলাম তাদের ১৩ দফা দাবি সম্বলিত প্রচারপত্র ইতিমধ্যে বিলি করেছে।
কিন্তু সুন্নী মতাদর্শভিত্তিক ইসলামী ফ্রন্ট, তরীকত ফেডারেশনসহ কয়েকটি ইসলামী দল হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচিকে জামায়াত শিবিরের পক্ষের কর্মসূচি হিসেবে দেখছেন। তারা আশংকা করছেন, জামায়াত-শিবির হেফাজতে ইসলামের সাথে থেকে হত্যা, খুনসহ দেশে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করবে। হেফাজতে ইসলামকে জামায়াত-শিবিরের বি-টিম হিসেবেও তারা আখ্যায়িত করেছেন। পরস্পর বিরোধী এসব বক্তব্য ও আশঙ্কার কারণে লংমার্চ নিয়ে সর্বমহলে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা বিরাজ করছে। এ পর্যন্ত হেফাজতের লংমার্চ কর্মসূচি প্রত্যাহারের জন্য সরকারের তরফ থেকে চালানো সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামবাদী বলেছেন, সরকার শত চেষ্টা করলেও লংমার্চ কর্মসূচি প্রত্যাহার করাতে পারবে না। লংমার্চ তার গন্তব্যে পৌঁছাবেই।
হাটহাজারীতে বৈঠক : সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ
আমাদের হাটহাজারী সংবাদদাতা জানান, গতকাল বেলা ২টায় হাটাহাজারীর দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম মাদরাসা মিলনায়তনে লংমার্চ কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সিনিয়র নায়েবে আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর আল্লামা হাফেজ শামসুল আলম, মাওলানা হাফেজ তাজুল ইসলাম, মহাসচিব আল্লামা হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা লোকমান হাকিম, মাওলানা সলিম উল্লাহ, মাওলানা মীর খলীলুর রহমান মাদানী, মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফতেপুরী প্রমুখ।
বৈঠকে লংমার্চ সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দ ইতিমধ্যে দেশব্যাপী শেষ হওয়া সফরের ফলাফল, ওলামা-মাশায়েখ এবং দলমত নির্বিশেষে তৌহিদী জনতার ব্যাপক সমর্থন, পোস্টার-লিফলেট বিতরণ, প্রচারণা ও জেলা কমিটির প্রস্তুতি সম্পর্কে কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবহিত করেন। বৈঠকে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ লংমার্চ কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি ও বিভিন্ন কৌশল নিয়ে নিজ নিজ অভিমত প্রকাশ করেন। বৈঠকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর প্রত্যেক জেলা কমিটিকে লংমার্চ কাফেলা পরিচালনা করার জন্য সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়।
লং মার্চ সফল করতে সিলেটে মুসল্লিদের প্রতি আহবান
সিলেট অফিস জানায়, আল্লাহ, মহানবী (সাঃ) ও ইসলাম ধর্মকে নিয়ে কটূক্তিকারী নাস্তিক, মুরতাদ, ব্লগারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে খলিফায়ে মাদানী আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে ৬ এপ্রিল ঢাকা অভিমুখী লংমার্চ সফল করতে মাদানী কাফেলার পক্ষ থেকে সর্বস্তরের মুসল্লিদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। গতকাল বিকালে সিলেট নগরীর বন্দর বাজারে কাফেলার এক সভায় এ আহ্বান জানানো হয়। কাফেলার সভাপতি মাওলানা রুহুল আমীন নগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন মুফতি খন্দকার হারুনুর রশীদ, মাওলানা তৈয়্যিবুর রহমান চৌধুরী, মাওলানা ছদরুল আমিন, মাওলানা সালেহ আহমদ শাহবাগী প্রমুখ।
