লং মার্চ বন্ধ করুন

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩৫
আগামী শনিবার রাজধানী অভিমুখে লংমার্চ বন্ধে হেফজতে ইসলামের প্রতি আহবান জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট আলেমরা। গতকাল মঙ্গলবার ১০১ জন আলেম এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান। রাজধানীর নয়া পল্টন ডিআইটি এক্সটেনশন রোড থেকে সচেতন হক্কানী আলেম সমাজের প্যাডে আহ্বায়ক আলহাজ মাওলানা জহিরুল ইসলাম মিঞা স্বাক্ষর করে সংবাদপত্রে এই বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা গভীর দুঃখের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি যে, একদল স্বার্থান্বেষী লোক পবিত্র ধর্ম ইসলামের নাম ব্যবহারের মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করে যাচ্ছে। এসব ষড়যন্ত্রকারী চক্রান্তের যাঁতাকলে দেশ, জাতি ও জনগণ নিষ্পেষিত। বিরোধীদলের ঘাড়ে ভর করে এসব স্বার্থান্ধ চিহ্নিত অপশক্তি দেশবিরোধী চক্র গণতান্ত্রিক কর্মসূচির নামে তাদের আসল চেহারা তুলে ধরেছে। বিবৃতিতে আলেমরা বলেন, দেশের বরেণ্য ওলামা মাশায়েখদের ভুল বুঝিয়ে অথবা প্রলোভনের জালে ফেলে ইসলাম হেফাজতের নামে মাঠে নামিয়েছে একটি অশুভ চক্র। ওলামা মাশায়েখদের শান্তিপূর্ণ লং মার্চ কর্মসূচিকে ঘিরে অপশক্তি চক্রান্ত করছে যে মওদুদী মতবাদবিরোধী এসকল বরেণ্য হক্কানী আলেমদের হত্যাসহ ব্যাপক নাশকতা চালাবে। ইতোমধ্যে হেফাজতে ইসলামের ভেতর জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীদের ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। যার কারণে দেশের সচেতন হক্কানী আলেম সমাজ উদ্বেগ প্রকাশ করছে। ১০১ জন আলেম বলেন, আমরা ওলামা মাশায়েখদের প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা রেখে এবং ইসলাম রক্ষার গুরুত্ব অন্তরে পোষণ করে আহ্বান করছি, চিহ্নিত এই অপশক্তি যেন তাদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে শিকার করতে না পারে। আমরা দেখতে পারছি, সরকার ইতিমধ্যে নাস্তিক ব্লগারদের তালিকা চূড়ান্ত করে গ্রেফতার অভিযান শুরু করেছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী নাস্তিকদের বিচারের সম্মুখীন করতে আইন সংশোধন করছে। এজন্য আমরা সরকারকে সাধুবাদ জানাই। আমরা আরও লক্ষ্য করেছি যে সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে অনেক নাস্তিক ব্লগার গা ঢাকা দিয়েছে। বিবৃতিতে তারা বলেন, হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি তারা যেন লংমার্চ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন। আমরা জানি, হেফাজতে ইসলামের সভাপতি শ্রদ্ধাভাজন মুরব্বী বর্ষীয়ান আলেম আল্লামা আহমদ শফী এবং লংমার্চের অন্যতম সঞ্চালক মুফতি ইজহার ও আল্লামা জুনায়েদ বাবু নগরি, ঢাকার আহ্বায়ক আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীসহ বরেণ্য আলেমরা ইতোপূর্বে প্রধানমন্ত্রীর সাথে একাধিকবার বৈঠক করে সুপরামর্শ দিয়েছেন। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশ ও জনগণের কথা বিবেচনা করে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সরকারের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সবকিছু সামাধান করাই যৌক্তিক।