নিজের অভিনয় দক্ষতা এবং সৌন্দর্যের দ্যুতি ছড়িয়ে দর্শকদের সামনে নিজেকে মেলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন অভিনয়শিল্পী জ্যোতিকা জ্যোতি। শুরু থেকেই অভিনয় করছেন নানা বৈচিত্র্যময় চরিত্রে। প্রতিটি চরিত্রেই নিজেকে ভেঙে আবার গড়েছেন, এর মাধ্যমেই চরিত্রের সঠিক তত্ত্ব তুলে ধরেছেন দর্শকদের সামনে। নানা ধরনের চরিত্রে সহজেই নিজেকে মানিয়ে নেওয়া এই গুণী শিল্পী এবার মুখোমুখি হয়েছেন আমাদের পাঁচ প্রশ্নের। সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন রিয়াদ খন্দকার ও ছবি তুলেছেন আশীষ সেনগুপ্ত
কেমন যাচ্ছে আপনার সময়টা?
আমার ক্যারিয়ারের পুরোটা সময়ই আমার জন্য পজেটিভ। কেননা আমি আগেও যেমন কাজ করেছি এখনও ঠিক তেমনই কাজ করে চলছি। তবে এ বছরটা বিশেষভাবে আমার কাছে পজেটিভ এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কেননা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য শাহবাগ আন্দোলনের সাথে নিজেকে যুক্ত রাখতে পেরেছি। এ ছাড়া বছরের শুরুতেই একটি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি এবং এ বছরেই আমার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ‘জীবন ঢুলি’ মুক্তি পাচ্ছে। কিন্তু বর্তমান দেশে বিদ্যমান পরিস্থিতি আমাকে অনেকটা বিমর্ষ করে তুলছে। হয়তো এই সংকটময় পরিস্থিতি সহজভাবেই শেষ হবে।
বর্তমানে ব্যস্ততা কী নিয়ে?
আমি আসলে বরাবরই নিজেকে দেখতে চেয়েছি ভালো কাজের একজন অভিনেত্রী হিসেবে। বর্তমানে কাজের ব্যস্ততা একটু বেশি। একক ও ধারাবাহিকে কাজ করছি সমান তালে। এ ছাড়া চলচ্চিত্রের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে।
কোন ধরনের নাটকে কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
অভিনয়ের সুযোগ রয়েছে এমন যেকোনো চরিত্রেই অভিনয় করতে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। কেননা দৈনন্দিন জীবনের আশপাশের চেনা সকল চরিত্রগুলোকেই পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে আমি পছন্দ করি। আর একক ও ধারাবাহিক—নাটকের এই দুই ধারাতে আমি দু ধরনের টেস্ট পাই। যেমন একক নাটকে একটি জীবনকে পুরো এক ঘণ্টাতেই তুলে নিয়ে আসতে হয় আর ধারাবাহিকে জীবনের খুঁটিনাটি নানা বিষয় সংযুক্ত হয়। তবে সব মিলিয়ে একক নাটক একটু বেশিই ভালো লাগে। কেননা একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই গল্পটা শেষ হয়। কিন্তু ধারাবাহিকে অনেক সময়ই দেখা যায় গল্পের মূলকেন্দ্র সরে যাচ্ছে। আর বর্তমানে আমাদের স্ক্রিপ্টের মধ্যে অনেক বৈচিত্র্য এসেছে। এখন আর নির্দিষ্ট প্রেম-ভালোবাসার মধ্যে আমাদের নাটক আটকে নেই। জীবনঘনিষ্ঠ নানা গল্পই উঠে আসছে নাটকে।
নাটকের মাঝে অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন দেখানো সম্পর্কে আপনার মতামত জানতে চাই।
আমাদের দেশের নাটকের গল্পগুলো অন্য দেশের থেকে অনেক ভালো। আমাদের কাজে অনেক সৃজনশীলতা রয়েছে। কিন্তু যখন আমাদের নাটকের মাঝখানে বেশি বিজ্ঞাপন প্রচার হয়, তখন তা দর্শকদের বিরক্তই করে তোলে। আর এত বিজ্ঞাপন দেখানো হয় যে নাটকের কথা দর্শক বেমালুম ভুলে যায়। অতিরিক্ত বিজ্ঞাপনের ফলে নাটকের স্বকীয়তাও নষ্ট হয়ে যায়।
আপনার নাগরিক আনন্দ-বেদনা কতটুকু?
একজন নাগরিক হিসেবে আমার আনন্দ হচ্ছে, শাহবাগের এত বড় মুভমেন্টের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে পেরেছি। এ ছাড়া শহীদ রুমী স্কোয়াডের ব্যানারে যারা অনশন করছেন তাদের সাথে আমিও একাত্মতা প্রকাশ করছি। এর জন্য আমি নিজে আজ (সোমবার) থেকে ৩৬ ঘণ্টার অনশনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি তাদের কষ্ট নিজে অনুভব করার চেষ্টা করছি। দেশের নাগরিক হিসেবে অবশ্যই দেশের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা ও দায়বদ্ধতা আছে। নানা প্রতিকূলতার মাঝেও আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে এমনটাই আশা করছি। আমি মনে করি, কারও জন্য অপেক্ষা না করে নিজেরা নিজেদের দায়িত্ব যদি সত্ ও সঠিকভাবে পালন করি তাহলে সমাজে কোনো সমস্যাই থাকবে না।
