বাংলাভিশনের নাচবিষয়ক রিয়েলিটি শো ‘ম্যাঙ্গোলি নাচো বাংলাদেশ নাচো’য় হাজারো প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে বিজয় মুকুট পরেছেন সূচনা বণিক। নিজের আত্মবিশ্বাস ও পরিশ্রমের এই অর্জনে তিনি এখন অনেক খুশি। আর নাটকে ঘিরেই তার ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনছেন মনের ভেতর। তাকে নিয়ে লিখেছেন
খালেদ আহমেদ
ও ছবি তুলেছেন আশীষ সেনগুপ্ত
‘শুরুতে ভাবিনি প্রথম হব। তবে আত্মবিশ্বাস ছিল ভালো করার। লাকি সেভেনে আসার পর আত্মবিশ্বাসটা অনেকখানি বেড়ে যায়। প্রথম হওয়ার খবরটি শোনার পর থেকে খুবই ভালো লেগেছে। আমি অনেক খুশি’—এভাবেই নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করেছেন সেরা নাচিয়ে সূচনা বণিক। বাংলাভিশনের নাচবিষয়ক রিয়েলিটি শো ‘ম্যাঙ্গোলি নাচো বাংলাদেশ নাচো’তে হাজারো প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হয়ে তিনি পেয়েছেন পাঁচ লাখ টাকা ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের সৌজন্যে একটি হীরার মুকুট।
এই প্রতিভাময়ীর জন্ম চট্টগ্রামে। থাকেন আন্দরকিল্লায়। বাবা সুনীল চন্দ্র বণিক ব্যবসায়ী। মা মাধুরী বণিক পুরোদস্তুর গৃহিণী। দুই বোন এক ভাইয়ের সংসারে সবার ছোট সূচনা। নাচ শুরুর গল্প জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মাত্র পাঁচ বছর বয়সেই নাচে হাতেখড়ি। গুরু অর্পিতা সেনের আর্যসংগীত বিদ্যাপীঠে দীর্ঘদিন নাচ শিখেছি। পরে শ্রী জয়ন্তী বণিক ও তরুণ চক্রবর্তীর কাছে দীক্ষা নিই। বর্তমানে চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমীর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। সেখানে ভরত, কত্থক, ওড়িশী ও মডার্ন সব রকমের নাচ শিখছি।’
রিয়েলিটি শো ‘নাচো বাংলাদেশ নাচো’ সম্পর্কে সূচনা বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতায় এসে আমি অনেক বন্ধু পেয়েছি। এই রিয়েলিটি শো’র অভিজ্ঞতা আসলে বুঝিয়ে বলতে পারবো না। আমার জীবনের সবচেয়ে ভালো অভিজ্ঞতা হলো নাচো বাংলাদেশ নাচো। ওখানে গিয়েই আমি নিজেকে নতুনভাবে আবিসড়ার করি। বিশেষ করে গ্রুমিং সেশনটা ছিল অনেক শেখার।
আমার মনে হয়, এখান থেকে বের হয়ে কেউ এই অভিজ্ঞতা ভুলতে পারবে না। ওই দিনগুলি কেটেছে অনেক আনন্দে। সেই সাথে শিবলী মহম্মদ ও ফেরদৌস স্যারসহ রিয়া ম্যাডামের মতো গুণী শিল্পীদের কাছে যেতে পেরেছি। এটা আমার জন্য সত্যিই অনেক পাওয়া। এ জন্য আমি আয়োজক বাংলাভিশন কর্তৃপক্ষের কাছে চিরদিন কৃতজ্ঞ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে ভালো ভালো প্রতিযোগী ছিল, ওদের নাচ দেখতাম আর অবাক হতাম। সবার দোয়া আর ভালোবাসা ছিল বলেই আমি এই জায়গায় আসতে পেরেছি।
যারা প্রথম হতে পারেনি, তারা যে আমার তুলনায় খারাপ নাচে তা কিন্তু নয়। সবাইকেই আমি শ্রদ্ধার চোখে দেখি। আর আমার পরিবারের প্রতিটি সদস্য আমাকে সব সময় মানসিকভাবে সহযোগিতা করেছে। বিশেষ করে আমার দাদা সঞ্জয় বণিক সব সময় আমাকে উত্সাহ ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন।’
বর্তমানে চট্টগ্রাম মহিলা কলেজে এইচএসসি প্রথম বর্ষে পড়ছেন। তার ইচ্ছা ভবিষ্যতে নাচে উচ্চতর শিক্ষা নিয়ে একজন ভালো মানের নৃত্যশিল্পী হওয়ার। পাশাপাশি নাটকে অভিনয় এবং উপস্থাপনায়ও নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে চান সূচনা।
