বলিউড

আয়ুষ্মানের চমক

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০১৩, ১৮:৫৪
আয়ুষ্মানকে নিয়ে বলিউডে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। তাকে নিয়ে চলেছে অনেক গবেষণা। অনেকের গভীর মনোযোগ আকর্ষণে সক্ষম হয়েছেন বলিউডের এই নতুন মুখ। বহুমুখী প্রতিভার আয়ুষ্মান গত বছর তার ডেব্যু সিনেমা ‘ভিকি ডোনার’-এর বড় ধরনের সাফল্যের সুবাদে এখন রীতিমতো সুপারস্টার বনে গেছেন। কেউ কেউ তাকে সারপ্রাইজিং স্টার হিসেবেও অভিহিত করছেন। একধারে অভিনেতা, গায়ক, গীতিকার এবং সুরকার হিসেবে স্বীকৃতি মিলেছে তার। ছোটপর্দায় উপস্থাপক হিসেবেও সব সময় সুপারহিট ছিলেন আয়ুষ্মান। গত বছরের সেরা সম্ভাবনাময় নতুর মুখের অভিনেতা হিসেবে এবং প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে বেশ অনেকগুলো প্রেস্টিজিয়াস পুরস্কার ঝুলিতে পুরেছেন তিনি এরইমাঝে। আয়ুষ্মানের নতুন আরেকটি ছবি আসছে আগামী সপ্তাহে। ফলে এখন হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে আলোচিত মুখ হিসেবে তার কথা ঘুরে-ফিরে আসছে সবখানে। বলিউডের সারপ্রাইজিং স্টার আয়ুষ্মানকে নিয়ে লিখেছেন রেজাউল করিম খোকন বলিউডে এখন প্রতিবছর অসংখ্য নতুন মুখের আগমন ঘটে। পুরোনো জনপ্রিয় মুখের পুনরাবৃত্তি দর্শকদের প্রায়ই বিরক্ত করে। সবাই চায় নতুন মুখের আবির্ভাব। দর্শক এ কারণে রুপালি পর্দায় নতুন মুখের আগমনের প্রতীক্ষায় থাকে। নতুন নায়ক কিংবা নায়িকার প্রথম অভিনীত ছবিটি এ কারণে অনেক দর্শকদের জন্য কৌতূহল, আগ্রহ এবং মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। সবক্ষেত্রেই যে দর্শকদের প্রত্যাশা শতভাগ পূরণ হয় না—এটা সত্যি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নতুন মুখকে ঘিরে সৃষ্ট প্রত্যাশা হতাশায় পরিণত হয়। তবে হঠাত্ হঠাত্ কিছু নতুন মুখ দর্শকদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি ভালো কিছু করে ফেলে সিনেমার পর্দায়, অভাবনীয় সাফল্যের চমক দেখান, মেধা ও যোগ্যতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। এভাবেই তাদের মধ্যে কেউ কেউ হয়ে ওঠেন সারপ্রাইজিং স্টার। গত বছরের একটি চমত্কার ব্যবসাসফল, সর্বমহলে বিপুলভাবে প্রশংসিত সিনেমা ‘ভিকি ডোনার’-এর প্রধান তারকা হিসেবে নতুন মুখ আয়ুষ্মান খুরানাও হয়ে উঠেছেন বলিউডের এক অনন্য সারপ্রাইজিং স্টার। ‘ভিকি ডোনার’ ছবিতে কেয়ার ফ্রি স্বভাবের প্রাণবন্ত এক যুবক ভিকি অরোরা চরিত্রে অভিনয় করেছেন আয়ুষ্মান। বেকার ভিকি বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে এবং ক্রিকেট খেলে সময় কাটায়। তার মায়ের বিউটি পারলার ব্যবসার আয়ে সংসার চলে। হঠাত্ একদিন ভিকির সঙ্গে দেখা হয় ডা. বলদেব চাড্ডার। তিনি নিঃসন্তান দম্পতিদের সন্তানলাভের জন্য চিকিত্সা করেন। স্পার্ম ডোনার এবং স্পার্ম ব্যাংক নিয়ে তার কারবার। ভিকির মতো টগবগে প্রাণবন্ত যুবককে পেয়ে পিছু লাগেন ডা. বলদেব। অর্থের বিনিময়ে তাকে স্পার্ম ডোনার হতে অনুরোধ করেন। শুরুতে রাজি না হলে এক সময়ে ভিকি ডা. বলদেবের স্পার্ম ব্যাংকে নিয়মিতভাবে স্পার্ম ডোনেশনের মাধ্যমে প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে থাকে। স্পার্ম ডোনেশনের মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে আবর্তিত ছবি ‘ভিকি ডোনার’ সর্বমহলে বিপুলভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এ ধরনের বিষয়বস্তু নিয়ে বলিউডে আগে কখনও কোনো ছবি হয়নি। সাধারণত এ ধরনের বিষয় নিয়ে ছবি হলে নানা মহল থেকে বিতর্ক-সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। কিন্তু ‘ভিকি ডোনার’ ছবিটি নিয়ে কোনো বিতর্ক বা সমালোচনা হয়নি। বরং সবাই বেশ মজা করে ছবিটি উপভোগ করেছেন। ছবির কোনো অংশ অশালীন কিংবা আপত্তিকর মনে হয়নি। বরং স্পার্ম ডোনেশনের বিষয়টি দর্শকদের হূদয় ছুঁয়ে গেছে। এটি একটি মানবিক ব্যাপার হয়ে উঠেছে। এমন একটি সেনসেটিভ বিষয় সব দর্শকদের কাছে হূদয়গ্রাহী হয়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন ছবির মূল চরিত্রে ভিকি অরোরার ভূমিকায় রূপদানকারী নতুন মুখের অভিনেতা আয়ুষ্মান খুরানা। তার স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় ভিকি চরিত্রটিকে সবার কাছে বিশ্বাসযোগ্য তুলেছে। দর্শক ‘ভিকি ডোনার’ ছবিটি দেখতে বসে খুব সহজেই একাত্ম হয়ে যেতে পেরেছেন এর কাহিনী ও ঘটনাবিন্যাসের সাথে। শুধুমাত্র অভিনয় নয়, এ ছবিতে গান গেয়েও বাজিমাত করেছেন আয়ুষ্মান। তার গাওয়া গান ‘পানি দা রাঙ দেখকে’ এই সময়ের অন্যতম সেরা সুপারহিট গান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মজার ব্যাপার হলো, এই গানটিতে প্লেব্যাক করা ছাড়াও গীতিকার ও সুরকার হিসেবেও যথেষ্ট মেধা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন আয়ুষ্মান। বলিউডের সবগুলো অ্যাওয়ার্ডেই ২০১২-এর সেরা নতুন অভিনেতা, গায়ক, সুরকার, গীতিকার ইত্যাদি ক্যাটাগরিতে অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেছেন তিনি। সর্বশেষ ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারেও চমক দেখিয়েছেন আয়ুষ্মান অভিনীত ‘ভিকি ডোনার’ ছবিটি। মেধা ও যোগ্যতাকে কোনোভাবেই চাপা দিয়ে রাখা যায় না। একদিন এটা প্রকাশ হবেই। আয়ুষ্মান খুরানার বেলায় এ কথাটি খাটে পুরোপুরিভাবে। প্রথম অভিনীত ছবিতে প্রচলিত ধারার নায়কদের বাইরে সম্পূর্ণ ভিন্ন ট্র্যাকের একটি চরিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি মেধার প্রমাণ দিয়েছেন। বলিউডে সাধারণত যে ধারার ছবি হয় তাতে নায়ক চরিত্রগুলো যেভাবে পর্দায় আসে হাঁটাচলা করে কথা বলে ‘ভিকি ডোনার’-এ ভিকি চরিত্রটি ছিল তার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। তেমন একটি চরিত্র সফলভাবে রূপায়ণের পর থেকে বলিউডে আয়ুষ্মানকে নিয়ে শুরু হয়েছে চিত্রনির্মাতাদের নানা গবেষণা। গতানুগতিক সাধারণ রোমান্টিক কিংবা অ্যাকশন হিরোরূপে নয়, তার মেধা ও যোগ্যতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো যায় তেমন চরিত্র সৃষ্টি ও গল্প তৈরির কাজে মনোনিবেশ করেছেন অনেকেই। এরই মাঝে আয়ুষ্মানকে নায়ক করে নির্মিত হয়েছে আরেকটি সিনেমা ‘নওটাংকি শালা’। কিছুটা ভিন্ন ধাঁচের রোমান্টিক-কমেডি ধাঁচের এ ছবিতে তাকে দেখা যাবে রাম পারমার চরিত্রে। রাম একজন অভিনেতা। বাস্তব জীবনে নানা ঘটনায় তাকে অভিনয় ক্ষমতাকে কাজে লাগাতে হয়। এখানেও আয়ুষ্মান আসছেন ভিন্নতার চমক নিয়ে। বৈচিত্র্যের অপূর্ব স্বাদ অনুভব করবেন দর্শক এ ছবিটি দেখতে বসে। ‘নওটাংকি শালা’ ছবিতেও তিনি বেশ কয়েকটি গানে প্লেব্যাক করেছেন।