হলিউড

উলভারিন ইজ ব্যাক অ্যাগেইন

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:০০
‘এক্স-মেন’ সিরিজের কথা মনে এলেই হিউ জ্যাকম্যানের মুখ আপনাআপনিই মনের পর্দায় ভেসে আসে। যেন তাকে ছাড়া ‘এক্স-মেন’ কল্পনা করাই যায় না। জনপ্রিয় এই অভিনয়শিল্পীর অভিনিত প্রিক্যুয়েল ছিল ‘এক্স-মেন অরিজিন :উলভারিন’। সম্প্রতি উলভারিন আবারও আসছেন দর্শক মাতাতে। হিউ জ্যাকম্যান ও উলভারিন চরিত্রটি নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম হিউ জ্যাকম্যানের যত সিনেমা পেপারব্যাক হিরো (১৯৯৯), এক্সমেন (২০০০), সামওয়ান লাইক ইউ, সোর্ডফিশ (২০০১), ভ্যানহেলসিং :দ্য লন্ডন অ্যাসাইনমেন্ট (২০০৪), দ্য প্রেস্টিজ, দ্য ফাউন্টেন (২০০৬), অস্ট্রেলিয়া (২০০৮), এক্স-মেন অরিজিন :উলভারিন (২০০৯), রিয়েল স্টিল (২০১১), লা মিজারেবল (২০১২)। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরের ছেলে জ্যাকম্যানের বাবা-মা ক্রিস জ্যাকম্যান আর গ্রেস ওয়াটসন। এই দম্পতির পাঁচ সন্তানের সবচেয়ে ছোট জ্যাকম্যানের সিডনি-লন্ডন-সিডনি ঘুরে পড়ালেখার পাঠ শেষ হয় ’৯১ সালে। তারপর থেকেই টকুটাক অভিনয়, উপস্থাপনার প্রস্তাব পাচ্ছিলেন তিনি। তবে মেলবোর্নে ওয়াল্ট ডিজনি প্রোডাকশনের ‘বিউটি অ্যান্ড দ্য বিস্ট’ ও ‘জো সিলিস’-এ কাজ করার প্রস্তাব দুটি বেশি যুত্সই ভেবে তিনি এখানে অভিনয় করতে রাজি হয়ে যান। তবে ছবিতে কাজ করার আগে তিনি মঞ্চে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর সাথে প্রচুর গানের অনুষ্ঠান করেছেন। আর ’৯৯ সালে সিনেমায় অভিনয় শুরুর মাধ্যমে নতুন এক জ্যাকম্যানের জন্ম হয়, যিনি অভিনয়ে বুঁদ হয়ে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রাণপণ পরিশ্রমে লিপ্ত হন। ১৯৯৪ সালে ‘ল অব দ্য ল্যান্ড’ ছবির মাধ্যমে রুপালি পর্দায় যাত্রা শুরু করেন জ্যাকম্যান। তবে প্রথম দিকের ছবিগুলোতে ছবিতে তার চরিত্র খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। জ্যাকম্যান অস্ট্রেলিয়ানদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেন এবিসি টেলিভিশনের ‘কোরেলি’ সিরিজে অভিনয়ের মাধ্যমে। ১৯৯৯-২০০০ সালে জ্যাকম্যান সিনেমা-টিভি-মঞ্চে একই সঙ্গে ত্রিমুখী অভিনয় চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে তিনি সত্যিকারের জনপ্রিয়তা পান মঞ্চ দিয়েই। লন্ডনের রয়্যাল ন্যাশনাল থিয়েটার ‘ওকলাহোমা’য় অভিনয় তাকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয়। এরপর তিনি হলিউডের পরিচালকদের চোখে পড়েন। ‘ওকলাহোমা’য় অভিনয়ের জন্যই তিনি ওলিভার অ্যাওয়ার্ডে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। ২০০০ সালে ব্রায়ান সিঙ্গারের ‘এক্স-মেন’ ছবিতে ‘উলভারিন’ চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান জ্যাকম্যান। এই ছবির মাধ্যমে নতুন এক জ্যাকম্যানের জন্ম হয়। যদিও সে সময় উলভারিন হিসেবে জ্যাকম্যানকে বেছে নেওয়ায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। কারণ বইতে উলভারিনের উচ্চতা ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি অথচ জ্যাকম্যান তার চেয়ে প্রায় এক ফুট বেশি লম্বা (৬ ফুট ২ ইঞ্চি)। কিন্তু সিনেমা মুক্তি পাওয়ার পর এসব সমালোচনা আর টেকেনি। যদিও পরিচালক জ্যাকম্যানের উচ্চতা ছোট করে দেখাতে শুটিংয়ের সময় বিশেষভাবে ক্যামেরা ব্যবহার করেন। কিন্তু পর্দায় তুমুল অ্যাকশন আর শ্বাসরুদ্ধ কাহিনী উপভোগের সময় দর্শকের সেসব মাথায়ই ছিল না। ২০০০ সালে ‘এক্স-মেন’ বেরুনোর পর ২০০৩ সালে ‘এক্স-মেন টু’ এবং ২০০৬ সালে ‘এক্স-মেন :দ্য লাস্ট স্ট্যান্ড’ এবং ২০০৯ সালে ‘এক্স-মেন অরিজিন :উলভারিন’ বানানোর জন্য হাতের তাস হিসেবে জ্যাকম্যানকেই বেছে নেন পরিচালক। অর্থাত্ নতুন এ্যাকশন মাস্টার হিসেবে হিউ জ্যাকম্যান দর্শকের মনে বেশ ভালোভাবেই আসন গড়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি জ্যাকম্যান মঞ্চের প্রচুর পুরস্কার বিতরণী এবং সংগীত অনুষ্ঠান উপস্থাপনাও করেছেন। কিছুদিন আগেই তিনি ‘লা মিজারেজল’-এ অভিনয়ের জন্য বেশ ব্যাপক আলোচিত হয়েছিলেন। সম্প্রতি আবারও সাড়া ফেলতে যাচ্ছেন উলভারিনের নতুন সিরিজ উপহার দিয়ে। এবারে উলভারিনকে দেখা যাবে জাপানে। যেখানে জীবন-মরণ যুদ্ধের মুখোমুখি হতে হয় তাকে, যা তাকে পুরোপুরি বদলে দেয়! প্রথমবারের মতো উলভারিন আবার সাধারণ মানুষে পরিণত হয়। সমস্যাটা হয় সেখানেই, তিনি তার ক্ষমতাগুলো ছাড়া চলতে পারেন না। নানা ধরনের বিপদের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। এসবের মধ্যে দিয়েই এগিয়ে চলে সিনেমার গল্প।