ছেঁউরিয়ায় লালন উত্সব অনুষ্ঠিত

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:০১
‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়’ লালনের মাজারে ঢুকতেই কানে বেজে ওঠে। এভাবে মাজারের ভেতরে দেশ-বিদেশ থেকে আসা বাউল ভক্ত-শিষ্যরা ভবের হাটে বসে জমিয়ে তুলে মজমা। এ যেন লাখো লালন ভক্তের মিলন মেলা। দিন-রাত বেঁধে সাঁইজির ধামে বসে গুরু সেবায় ব্যস্ত ভক্তবৃন্দ। লালন ভক্ত-শিষ্য ও বাউলসহ লাখ লাখ জনতার ঢলে কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়ি উত্সবমুখর ও মিলনমেলায় পরিণত হয়। গত ২৬ মার্চ হতে পাঁচ দিনব্যাপী স্মরণোত্সবে দেশি-বিদেশি পর্যটক ও লালন ভক্ত-অনুরাগীদের আগমন ঘটে। লালন একাডেমী চত্বরে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁই দোল পূর্ণিমার তিথিতে এখানে দোল উত্সবের আয়োজন করতেন। সেই ধারাবাহিকতায় সাঁইজির তিরোধানের পর দোল উত্সবের পাশাপাশি পহেলা কার্তিক ছেঁউড়িয়ায় তিরোধান দিবস উপলক্ষে স্মরণোত্সবের আয়োজন করা হয়। এবারের দোল উত্সবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বাউলরা একতারা-দোতারা আর নানা বাদ্যযন্ত্রের সুরের তালে তালে গলা খুলে গাইতে থাকেন লালনের গান। আখড়াবাড়িতে ঢোকার রাস্তায় পা ফেলতেই লালনের উদাসী গানের সুর কানে ধরা দেয়। লালন ও তার গানই মাজারে টেনে আনছে সর্বস্তরের মানুষকে। কোন সে উদাসী ডাক? কোনো দাওয়াত নেই, পত্র নেই, তবুও সাধু-ভক্ত ছুটে আসে দলে দলে। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য বেগম সুলতানা তরুণ। পাঁচদিনের উত্সবে প্রতিদিন লালন উন্মুক্ত মঞ্চে প্রথম পর্বে আলোচনা ও দ্বিতীয় পর্বে বিভিন্ন শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমন্বয়ে পরিবেশিত হয় লালনগীতি। ‘সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে’, ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়’সহ বিভিন্ন লালনগীতি পরিবেশন করেন দেশের খ্যাতনামাসহ স্থানীয় শিল্পীরা। লালন একাডেমির অডিটোরিয়ামের নিচতলাসহ সমস্ত মাজার আঙিনায় অবস্থান নেওয়া আগত লালন ভক্ত-শিষ্যরা গান-বাজনায় মেতে থাকার পাশাপাশি একে অপরে ক্ষণিকের জন্য জিরিয়ে নেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা বাউলরা দরদভরা কণ্ঠে একের পর এক গেয়েছেন লালনের রেখে যাওয়া সব আধ্যাত্মিক গান। এ যেন এক অদ্ভুত মহামিলন, লালনচরণে সবাই যেন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এক আত্মায় পরিণত হয়।