ডিমিউচুয়ালাইজেশনের ৭ বছর পর্যন্ত কর অব্যাহতি দাবি

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০১৩, ২০:১৬
স্টক এক্সচেঞ্জের ডিমিউচুয়ালাইজে-শনের (ব্যবস্থাপনাকে পৃথকীকরণ) পরবর্তী ৭ বছর পর্যন্ত স্টক এক্সচেঞ্জের আয়ের উপর কর অব্যাহতি চায় চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। সিএসই’র পক্ষ থেকে বলা হয়, যুক্তি ও কৌশলী বিনিয়োগ আকর্ষণসহ কারিগরি ও অবকাঠামো উন্নয়নে পুনরায় বিনিয়োগ করতে হবে। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ন্যায় এটাকে করের আওতায় আনলে তারল্য সংকট সৃষ্টি হবে। এ জন্য পরবর্তী সাত বছর পর্যন্ত কর অব্যাহতি দেয়া যৌক্তিক। গতকাল বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাথে আগামী ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেট পূর্ব আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এ দাবি করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন। আগামী তিন মাসের মধ্যে ডিমিউচুয়ালাইজেশন বাস্তবায়ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সিএসই’র সভাপতি আল মারুফ খান বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এছাড়া স্টক এক্সচেঞ্জের ব্রোকারেজ হাউজের আয়কর বিদ্যমান দশমিক ০৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ০১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়। গত ২০০৬-০৭ অর্থবছরে এই হার দশমিক ০১৫ শতাংশ ছিল। তবে শেয়ার বাজারে লেনদেন বেশি হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯-১০ অর্থবছরে এই হার বাড়িয়ে দশমিক ০২৫ শতাংশ এবং ১০-১১ অর্থবছরে দশমিক ০৫ শতাংশ করা হয়। তবে গত অর্থবছরের শুরুতে এটিকে দশমিক ১০ শতাংশ করা হলেও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের দাবির প্রেক্ষিতে আবার দশমিক ০৫ শতাংশ করা হয়। কর্পোরেট করের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শ্রেণির কোম্পানিকে পৃথক স্কীমের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব কোম্পানির ক্ষেত্রে এক লাখ টাকা পর্যস্ত করছাড় দাবি করা হয়। এর পরবর্তী ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সাড়ে ১৭ শতাংশ এবং পরবর্তী যে কোন পরিমাণ আয়ের উপর সাড়ে ৩৭ শতাংশ আয়কর নির্ধারণ করার প্রস্তাব দেয়া হয়। লভ্যাংশ থেকে উেস কর কাটার বিধান বাতিলের প্রস্তাব দেয়া হয়। এতে বলা হয়, বর্তমানে কোম্পানি ২০ শতাংশ, নিবাসী ও অনিবাসী করদাতারা যথাক্রমে ১০ ও ২৫ শতাংশ হারে মুনাফায় কর দেন। লভ্যাংশ থেকে উেস কর কর্তনের ফলে দ্বৈত করের সৃষ্টি হয়। করমুক্ত আয়ের সীমা বিদ্যমান ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করার দাবি জানানো হয়। এছাড়া কর রেয়াতের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ লভ্যাংশের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ কর রেয়াত ও ২৫ শতাংশের ঊর্ধ্বে লভ্যাংশের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ হারে কর রেয়াত দেয়ার প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া চলতি বাজেটের মত আগামী বাজেটেও কালো টাকা ১০ শতাংশ জরিমানায় শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করা হয়। আলোচনায় অংশ নিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জ কোম্পানির জন্য বিদ্যমান দশমিক ০৫ শতাংশ আয়করকে যৌক্তিক বলে মত প্রকাশ করেন। তবে বাজেটে বিষয়টি বিবেচনায় রাখার আশ্বাস দেন তিনি।