দুই কোরিয়ার উদ্যোগে স্থাপিত শিল্প এলাকা কাইসংয়ে দক্ষিণের কর্মীদের প্রবেশের অনুমতি দেয়নি উত্তর কোরিয়া। এদিকে, উত্তর কোরিয়া সঙ্কট ‘অনেক দূর গড়িয়েছে’ মন্তব্য করে জরুরিভিত্তিতে আলোচনার আহবান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। এছাড়া, উত্তর কোরিয়ার হামলার হলে নিজেদের ও মিত্র দেশ দক্ষিণ কোরিয়াকে যেকোন মূল্যে রক্ষা করার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
উত্তর ও দক্ষিণ, দুই কোরিয়ার যৌথ উদ্যোগে স্থাপিত শিল্প এলাকা কাইসং-এ দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মীদের প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না উত্তর কোরিয়া। কোরীয় উপদ্বীপে বিদ্যমান চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন এ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উত্তর কোরিয়া। বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণ মন্ত্রণালয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এ কথা জানিয়েছে।
কাইসং শিল্প এলাকায় দক্ষিণ কোরীয়দের প্রবেশ স্থগিতের আগে দক্ষিণের কর্মীদের অপেক্ষায় রেখে সময়ক্ষেপণ করে উত্তর কোরীয় কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে তারা প্রবেশ স্থগিত করে। এই শিল্প এলাকাটির উত্পাদন প্রতি বছর উত্তর কোরিয়াকে ২শ’ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে সহায়তা করে। দক্ষিণ কোরীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কাইসং এলাকায় রয়ে যাওয়া কয়েকশ’ দক্ষিণ কোরীয় কর্মীকে দেশে ফিরে আসার অনুমতি দেয়া হতে পারে।
এদিকে, উত্তর কোরিয়া সঙ্কট ‘অনেক দূর গড়িয়েছে’ মন্তব্য করে জরুরিভিত্তিতে আলোচনার আহবান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। উত্তর কোরিয়া মঙ্গলবার তাদের প্রধান ইয়ংবিয়ন পরমাণু স্থাপনা নতুন করে চালুর পরিকল্পনা ঘোষণার পর বান এ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করলেন। দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপের আন্দোরা সফরকালে এক সংবাদ সম্মেলনে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আশু আলোচনা ডাকেন বান।
গত ফেব্রুয়ারিতে উত্তর কোরিয়া তৃতীয়বারের মতো পরমাণু পরীক্ষা চালানোর পর থেকে তাদের একের পর এক হুমকি ও সামরিক তত্পরতায় উত্তেজনা বাড়ছে। পরমাণু পরীক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ায় ক্ষুব্ধ উত্তর কোরিয়া গত শনিবার দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে “যুদ্ধাবস্থায়” প্রবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটিতে হামলার হুমকি দিয়ে তারা রকেট তাক করেছে, পরমাণু কর্মসূচি আরো জোরদারের পদক্ষেপ নিয়েছে এবং সর্বশেষ বন্ধ হয়ে যাওয়া ইয়ংবিয়ন পরমাণু স্থাপনা আবার চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বান বলেছেন, পরিস্থিতি শান্ত হতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংঘাতের পথে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই উত্তর কোরিয়ার। পরমাণু অস্ত্রের হুমকি কোনো খেলা নয়।
উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক হামলার হুমকির মুখে নিজেদের ও মিত্র দেশ দক্ষিণ কোরিয়াকে যেকোন মূল্যে রক্ষা করার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি চলমান উত্তেজনা নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউন বাইওং-সের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। জন কেরি তার বক্তৃতায় উত্তর কোরিয়ার ভূমিকাকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন। সেই সঙ্গে উত্তর কোরিয়াকে কখনোই যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু শক্তিধর দেশ হিসেবে মেনে নেবে না বলেও উল্লেখ করেন।
