ভারতে কাজের বিনিময়ে ইউরিয়া পাচ্ছেন বাংলাদেশি কৃষিশ্রমিক

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০১৩, ২১:১১
সময় তখন বেলা ১টা। ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ধর্মগড় সীমান্তে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) হাতে শান্তির পতাকা নিয়ে টহলে। কারণ চলতি মাসে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মণ্ডুমালা সীমান্ত থেকে ৩ জন কৃষককে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ। ঠিক এমন সময় টহল বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাথায় এক বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে ভারত থেকে নাগর নদী পার হয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করলেন এক কৃষক। যদিও তার চোখে মুখে ভয়ের ছাপ। এক পর্যায়ে কথা বলতে রাজি হন সবুর আলী (৪০)। বাড়ি সীমান্তের শাহানাবাদ গ্রামে। পেশায় কৃষক। ৪ দিন ভারতের রায়গঞ্জ জেলার গোয়ালপুকুর থানার গাদিপাড়া এলাকার প্রভাত মেম্বারের জমিতে কাজ শেষে টাকার বিনিময়ে সার নিয়ে নিয়ে দেশে ফিরেছেন তিনি। দীর্ঘ আলাপচারিতার এক পর্যায়ে সবুর আলী জানান, হরিপুর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল হলো ধর্মগড় সীমান্ত। এ এলাকায় কাজের খুব অভাব। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হয়ে পাশের দেশ ভারতে কাজ করতে যেতে হয় তাকে। তিনি জানান, ভারতে কাটাবার সংলগ্ন অনেক অনাবাদি জমি রয়েছে ভারতীয়দের। সেগুলো দীর্ঘদিন ফেলে রাখার পর চাষ করেন তারা। কিন্তু সেখানে ভারতীয় কোনো কৃষককে কাজের জন্য পান না তারা। ফলে ওই জমির মালিকরা বাংলাদেশ কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি আরো জানান, এক বস্তা ইউরিয়া সারের বিনিময়ে একজন কৃষককে সপ্তাহে ৪ দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জমিতে কাজ করতে হয় বললেন। কাজ শেষে আবার দেশে ফিরে আসি। এভাবে ৪ দিন কাজ করার পর সেখান থেকে এক বস্তা ইউরিয়া সার ঝুঁকি নিয়ে দেশে ফিরতে হয়। পরে অবশ্য ওই সার এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছে ৯শ’ টাকায় বিক্রি করি। এছাড়া টাকা চাইলে তারা ভারতীয় টাকা দেয়। আর ওই টাকা বাংলাদেশে অচল। তাই টাকার বিনিময়ে সার নেয়ার প্রস্তাবটি আমরাই তাদের দেই। এভাবেই কষ্টের মাঝে চলে আমাদের সংসার। সবুর আলী আরো জানান, শুধু আমি নই। আমার মতো অসংখ্য কৃষক সেখানে ভারতে গিয়ে কাজ করে। তা না হলে সংসার চালাবো কিভাবে। বিএসএফ যদি ধরে নিয়ে যায় বা গুলি করে এমন প্রশ্নে সবুর আলী বলেন, না খেয়ে থাকার চেয়ে গুলি খাওয়া অনেক ভালো। সংসার চালাতে গিয়ে এমন ঝুঁকি নিতে হয়। সাধ করে তো আর এ ঝুঁকি কেউ নেয় না। সবুর আলীর স্ত্রী হালিমা জানান, যখন তিনি (সবুর আলী) কাজ করতে যান, আমরা সবাই ভয়ে ভয়ে থাকি। কারণ যখন তখন বিএসএফ কৃষকদের ধরে নিয়ে যায়। তিনি আরো জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যায় সন্তানদের নিয়ে সীমান্তের ধারে গিয়ে অপেক্ষা করি কখন তিনি (স্বামী) নদী পার হয়ে ফিরে আসবেন। এ সময় তিনি বলেন, যখন দেখি তিনি নদী পার হচ্ছেন তখন শান্তি পাই। ধর্মগড় ইউপি চেয়ারম্যান লোকমান আলীর বলেন, এ এলাকায় অভাবী মানুষের সংখ্যা অনেক। অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভারত গিয়ে কাজ করছে শুনেছি। এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও ৩০ বর্ডার গার্ডের অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু বক্কর আবু বলেন, বাঁচার তাগিদের জন্য কৃষকরা কাজের আশায় অবৈধভাবে ভারতে যাচ্ছে বলে শুনেছি।