হবিগঞ্জে আনারস চাষে উজ্জ্বল সম্ভাবনা

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০১৩, ২১:১২
প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর হবিগঞ্জ জেলার পাহাড়িয়া এলাকায় আনারস চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। জেলার বাহুবল, চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলায় প্রায় ৬ হাজার একর জমিতে আনারস চাষ করা হচ্ছে। জেলায় মুছাই খাসিয়া পুঞ্জি বাজার আনারসের বড় আড়ত। ভরা মৌসুমে এখান থেকে ট্রাকে ও ট্রলিতে করে বিভিন্ন বাজারে আনারস প্রেরণ করা হয়। আড়তদাররা জানান, বৈশাখ মাস থেকে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত আনারস উত্পাদনের ভরা মৌসুম। জেলার বাহুবল উপজেলার ফয়েজাবাদ পাহাড় এলাকায় বর্তমানে ব্যক্তি মালিকানাধীন বেশ কিছু আনারস বাগান গড়ে উঠেছে। এখানে আনারস চাষের জন্য স্বল্প পারিশ্রমিকে খাসিয়া উপজাতি ও চা শ্রমিকদের নিয়োজিত করা যায়। বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে আনারস চাষের জমির পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার একর। এছাড়া চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, টাঙ্গাইল, ঢাকা, কুমিল্লা, নরসিংদী, ময়মনসিংহ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়সহ সারা দেশে আনুমানিক ৪০ হাজার একর জমিতে প্রতি বছর গড়ে ১০০ কোটি টাকার আনারস উত্পাদিত হচ্ছে। সিলেট অঞ্চলের জলডুপি আনারসের সুখ্যাতি থাকলেও বর্তমানে এর চাষ অনেকটা কমে গেছে। বর্তমানে দেশে বিলাতি হানি কুইন, কালেঙ্গা জায়েন্ট কিউ এবং ঘোড়াশাল জাতের আনারস উত্পাদিত হচ্ছে। ইদানিং আনারস বিদেশের বাজারেও রপ্তানি হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগ, পর্যাপ্ত ব্যাংক ঋণ প্রদান ও আনারস প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প ইউনিট স্থাপনের মাধ্যমে অতিসহজেই হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন পাহাড়িয়া এলাকায় এই অর্থকরী ফসল চাষের পরিমাণ কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব। পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরকে উত্সাহিত করে দেশের চাহিদা পূরণের সঙ্গে সঙ্গে বিদেশে আনারস রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব।