মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে রংপুরের আলু রপ্তানি

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০১৩, ২১:১৯
রংপুর অঞ্চলের উত্পাদিত আলু এখন বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। আলু সংরক্ষণের অভাব ও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকের মাঝে যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছিল বিদেশে আলু রপ্তানি হওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষক এবং রপ্তানিকারকদের আশান্বিত করেছে। এরই মধ্যে এ অঞ্চল থেকে ১৫ লাখ মেট্রিক টন আলু রপ্তানি হয়েছে। আরো ২০ লাখ মেট্রিক টন আলুর চাহিদা রয়েছে। এসব আলু দেশের গণ্ডি পেরিয়ে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, রাশিয়া এবং সৌদি আরবের বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ওইসব দেশের চিপস কোম্পানিগুলো রপ্তানিকৃত আলু কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার করে থাকে। চট্টগ্রাম, বগুড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকার রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আলু রপ্তানি করে আসছে। চাহিদা অনুযায়ী মানসম্পন্ন আলু রপ্তানি করা গেলে আগামী ২ মাসে প্রায় ৩শ’ ৫০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। কৃষকরা আশা করছেন, আলু রপ্তানি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে তারা ন্যায্য মূল্য পাবেন। প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং আলু চাষে উত্সাহিত হবেন কৃষক। রংপুর বিভাগে এবার ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮শ’২৯ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। এবারে ৩০ লাখ ৪৬ হাজার ৯শ’ ৪৬ মেট্রিক টন আলু উত্পাদন হয়েছে বলে কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। জানা যায়, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাটসহ আশপাশের জেলা থেকে আলু ক্রয় করে প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে তা বিভিন্ন দেশে পাঠানো শুরু হয়েছে। এইসব জেলা থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২০ লাখ মেট্রিক টন বিভিন্ন জাতের আলু রপ্তানি করা হয়েছে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও সৌদি আরবে। মালয়েশিয়ার বাজারে প্রতি টন আলুর দাম প্রায় ৩শ’ মার্কিন ডলার। সে দেশে গ্র্যানুলা ও ডায়মন্ড আলু প্রতিটন প্রায় ২শ’ মার্কিন ডলারে বিক্রি হচ্ছে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এ অঞ্চলের বিভিন্ন এজেন্টদের মাধ্যমে রংপুরের বালাবালী, পাগলাপীর, ধনতোলা, তপোধন, মাহিগঞ্জ, পীরগাছা, গঙ্গাচড়া, মিঠাপুকুর এলাকায় ভেন্যু করে আলু সংগ্রহ ও পরিষ্কার করে প্যাকেটজাত করছে। এছাড়াও পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ, জলঢাকা, ডিমলা, দিনাজপুরের বীরগঞ্জ, চিরিরবন্দর, সেতাবগঞ্জ, কুড়িগ্রামের কাঁঠালবাড়ি এলাকাতেও একইভাবে কাজ চলছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, যে ব্যাগে করে আলু রপ্তানি করা হচ্ছে, দেশে সেই পিপি ওভেন মেস ব্যাগের সরবরাহ একেবারে কম। তাই মাঝে মধ্যে তারা ব্যাগ সংকটের কারণে অর্ডার নিতে পারছেন না। তাই এ ব্যাপারে তারা সরকারের আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন।