লংমার্চ প্রত্যাহারের আহ্বান হাক্কানী আলেম সমাজের

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০১৩, ২২:২৫
সচেতন হাক্কানী আলেম সমাজ আগামী ৬ এপ্রিলের আহূত হেফাজতে ইসলামের রাজধানীমুখি লংমার্চ কর্মসূচি প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছে। সে সাথে প্রশ্ন রাখা হয়েছে মওদুদীপন্থি জামায়াত-শিবির যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করা কী সহীহ আক্বীদার আলেমদের কর্মসূচি হতে পারে? গতকাল বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে হাক্কানী আলেম সমাজের সমন্বয়কারী মাওলানা আবদুল কবির খান জামাল এ আহ্বান জানান। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশবাসী ৬ এপ্রিল নিয়ে অজানা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। সেদিন জামায়াত-শিবিরসহ কয়েকটি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ব্যাপক নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জামায়াত-শিবির যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া রুখে দিতে নানা কর্মসূচি দিয়েও রাজনীতির হালে পানি পাচ্ছিল না। এখন তারা হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ কর্মসূচিকে হত্যা, তাণ্ডব, নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্য মোক্ষম হাতিয়ার হিসাবে লুফে নিয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের সচেতন হাক্কানী আলেম সমাজ দারুণভাবে উদ্বিগ্ন। হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ কর্মসূচিকে উপলক্ষ করে অপশক্তি রক্তের হোলি খেলায় মেতে উঠেছে। তিনি আরও বলেন, অপরাজনীতির মোহে বিএনপি-জামায়াত জোট লংমার্চকে তাদের হাতিয়ার হিসাবে নিয়েছে। হাক্কানী আলেম সমাজের পরিষ্কার বক্তব্য হচ্ছে, লংমার্চ কোন ইসলামী পরিভাষা নয়। চীন দেশে কমিউনিস্ট নেতা মাওসেতুং লংমার্চ কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। কিন্তু কমিউনিস্ট কর্মকাণ্ডকে নাস্তিক রোখার পন্থা হিসাবে কিভাবে গ্রহণ করা হলো? মাওলানা আবদুল করিম খান প্রশ্ন রাখেন মওদুদীপন্থি জামায়াত-শিবির যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করা কী সহীহ আক্বীদার আলেমদের কর্মসূচি হতে পারে? তিনি বলেন, পরিতাপের বিষয় দেশে একদল লোক ইসলামের নামে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, সংঘর্ষ, তাণ্ডব ও হত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। মওদুদীবাদী জামায়াত-শিবিরের কর্মকাণ্ড দেশে-বিদেশে ইসলাম ধর্মকে কলুষিত করেছে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা যে রকম তাণ্ডব-সন্ত্রাস হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছিলো, যেভাবে দেশকে ধ্বংস স্তূপে পরিণত করেছিলো, ঠিক একই পন্থায় তারা দেশের মধ্যে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে চলেছে। সংবাদ সম্মেলন থেকে হেফাজতে ইসলামের সভাপতি আল্লামা আহমদ শফীসহ বরেণ্য আলেমদের প্রতি লংমার্চ কর্মসূচি প্রত্যাহার করার আহ্বান জানানো হয়। সে সাথে বলা হয় দেশ ও জনগণের কথা বিবেচনা করে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সরকারের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করাই যৌক্তিক। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আহ্বায়ক মাওলানা জহিরুল ইসলাম মিঞা (মুস্তাক্ীম হুজুর), মাওলানা সৈয়দ ওয়াহিদুজ্জামান, মুফতি মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, মুফতি মো. মাসুমবিল্লাহ, আলহাজ্ব মাওলানা মাজহারুল ইসলাম, মাওলানা আবু সুফিয়ান প্রমুখ।