আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, হেফাজতে ইসলাম তাদের লংমার্চ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করলে সরকার তাতে কোন বাধা দিবে না; বরং সহযোগিতা করবে। সত্যিকার অর্থে ইসলাম চাইলে তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করার মাধ্যমে তার প্রমাণ দেবে। তিনি বলেন, একাত্তরে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার নির্দেশে দেশবিরোধী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলছে। সুপরিকল্পিতভাবে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্য তারা হামলা করে পুলিশ প্রশাসনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চায়। রীতিমতো এটা দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। দেশবিরোধী এই তাণ্ডব আগামীর জন্য অশনিসংকেত। রাজশাহী, দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ওপর জামায়াত-শিবিরের বর্বরোচিত হামলা এবং দেশব্যাপী হরতালের নামে বিএনপির নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আগামী ৭ এপ্রিল রাজধানীসহ সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করবে ১৪ দল। রাজশাহীতে শিবির কর্তৃক পুলিশের মাথা থেঁতলে দেয়ার ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতা ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, খুলনায় যেভাবে পুলিশের ব্যর্থতার কারণে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে একইভাবে রাজশাহীতে দোষী পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ১৪ দলের নেতারা।
গতকাল বুধবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের বৈঠক শেষে মোহাম্মদ নাসিম ১৪ দলের পক্ষে এসব কথা বলেন।
এ সময় জাসদের কার্যকরী সভাপতি মাঈনুদ্দিন খান বাদল এমপি বলেন, হেফাজতে ইসলাম যদি হেফাজতে ইসলাম হিসাবে থাকে তবে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু এটি হেফাজতে জামায়াত ইসলামী হলে সমস্যা রয়েছে।
মোহাম্মদ নাাসিম বলেন, জামায়াত- শিবির নিষিদ্ধের ব্যাপারে ১৪ দল ঐক্যবদ্ধ। এ ব্যাপারে জাতীয় ঐক্যমতও সৃষ্টি হয়েছে। তাই দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া এই সংগঠনকে নিষিদ্ধের এখনই মূল সময়। এজন্য আইনমন্ত্রীকে অনুরোধ করব এই দলকে নিষিদ্ধ করতে যাতে এখনই ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তিনি বলেন, একাত্তরের ঘাতকদের বিচারের প্রশ্নে কোন সমঝোতা হবে না। যত হুমকি ধামকি আসুক এ পথ থেকে প্রধানমন্ত্রী কিংবা আমাদের সরানো যাবে না।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, প্রেসিডিয়াম সদস্য সতীশ চন্দ্র রায়, নূহ-উল-আলম লেনিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম, উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মল্লিক, পলিট ব্যুরোর সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, জাসদের কার্যকরী সভাপতি মাঈনুদ্দিন খান বাদল এমপি, সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া, স্থায়ী কমিটির সদস্য শিরীন আকতার, মোহাম্মদ খালেদ, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, ডা. অসিত বরণ রায়, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, লুত্ফর রহমান, আবু হামেদ শাহাবুদ্দিন, ধীরেন সিংহ, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নূরুর রহমান সেলিম, শহীদুল ইসলাম বাবলু, ডা. শাহাদাত্ হোসেন, মাহমুদুর রহমান বাবু, গণআজাদী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ, মাওলানা নজরুল ইসলাম আশরাফী, এস কে সিকদার, আব্দুল জব্বার, মজদুর পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন, ন্যাপের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন প্রমুখ।
৩ ব্লগার গ্রেফতারে ১৪ দলের শরিক নেতাদের ক্ষোভ :এদিকে সূত্র জানায়, বৈঠকে ১৪ দলের শরিক নেতারা তিন ব্লগার গ্রেফতারে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার দেশ পত্রিকা ইসলাম ও মহানবীকে (স.) নিয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান উস্কানির মাধ্যমে দেশে নৈরাজ্য ও সন্ত্রাস সৃষ্টি করলেও তাকে গ্রেফতার করা হয়নি।
নেতারা বলেন, একইভাবে সাঈদীকে চাঁদে দেখা যাওয়ার গুজব ছড়িয়ে এবং কাবা শরীফের গিলাফ পরিবর্তনের ছবিকে সাঈদীর মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বলে চালিয়ে যুদ্ধাপরাধী স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠী ইসলাম ধর্মের অবমাননা করেছে। অথচ তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে ব্লগারদের গ্রেফতারের ঘটনা সরকারের আপোষকামিতাকেই তুলে ধরেছে।
বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা আহমাদ শফীর সঙ্গে বৈঠক করায় ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, আহমাদ শফী যুদ্ধাপরাধের দায়ে আটক বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ লোক। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর অর্থে তার সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তার সঙ্গে সরকারের এই বৈঠকে এই উগ্র জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী আরও উত্সাহ পাবে। শরিক দলগুলোর নেতাদের এসব ক্ষোভের জবাবে ১৪ দলের প্রধান শরিক আওয়ামী লীগ নেতারা অবশ্য কোন কথা বলেননি। পুরোটা সময় তারা অনেকটা নীরবই ছিলেন।
