দেশের স্বার্থে অন্তত এক নেত্রীকে নিজ অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে :ডিসিসিআই

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০১৩, ২২:২৬
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট মো. সবুর খান বলেছেন, দেশ ও অর্থনীতির স্বার্থে অন্তত এক নেত্রী নিজের অবস্থান থেকে সরে আসলে পুরো জাতি আজীবন তাকে শ্রদ্ধা করবে। বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং হরতালের কারণে জনগণ দুই দলের উপরই চরম বিরক্ত। এছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়গুলো উপেক্ষা করে বড় দুই দলের মধ্যে ব্যবধান দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় দুই দলই সমালোচনার সম্মুখীন হচ্ছে। এ অবস্থায় যিনি উদারতার পরিচয় দিবেন, তরুণ প্রজন্ম তারই উদারতায় সাড়া দিয়ে তাকেই মূল্যায়ন করবে। গতকাল বুধবার ডিসিসিআই কার্যালয়ে চলমান রাজনৈতিক সংকট এবং অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাবের প্রেক্ষিতে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এসময় ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি নেসার মাকসুদ খান এবং সহ-সভাপতি আবসার করিম চৌধুরীসহ পরিচালকমণ্ডলী উপস্থিত ছিলেন। রপ্তানি খাতকে হরতালের আওতামুক্ত রাখার আহবান জানিয়ে মো. সবুর খান বলেন, হরতালের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট গাইড লাইন বা নীতিমালা প্রণয়ন করা দরকার। কোন পরিস্থিতিতে হরতাল আহবান করা যাবে বা কোন ক্ষেত্রে হরতালের বৈধতা দেয়া যাবে তার একটি গাইড লাইন থাকলে সরকারও এ বিষয়ে সচেতন হতে পারবে যাতে হরতাল আহবানের পরিস্থিতি তৈরি না হয়। হরতাল গণতান্ত্রিক অধিকার উল্লেখ করে ডিসিসিআই প্রেসিডেন্ট বলেন, বিরোধীদল এ অধিকার প্রয়োগ করতে পারে। তবে তার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। যা জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে প্রণয়ন করা যেতে পারে। সামপ্রতিক সময়ের অর্থনীতির পরিস্থিতি তুলে ধরে মো. সবুর খান বলেন, শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে নেতিবাচক ধারা, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হ্রাস, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ হ্রাস এবং নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুত্ ও গ্যাস সংযোগের নিশ্চয়তা না দেয়া অর্থনীতির জন্য আশঙ্কার কারণ। তার উপর রাজনৈতিক অস্থিরতা শিল্প উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই এখনই এর একটি সমাধান হওয়া জরুরি। সবুর খান আরও বলেন, পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যদি বছরে গড়ে ৪০ দিন হরতাল হয়, এতে ৬৪,০০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। রাজনৈতিক সহিংসতা ও হরতালের কারণে প্রতিবছর সাড়ে ৬ শতাংশ হারে জিডিপি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে হরতালের মত কর্মসূচি পরিহার করা গেলে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ডাবল ডিজিটে পৌঁছানো সম্ভব।