গোলাম আযমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০১৩, ২২:২৮
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযমের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বুধবার বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ যুক্তি উপস্থাপন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক। তিনি বলেন, গোলাম আযমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। যুক্তি উপস্থাপন অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। গতকাল সকালে গোলাম আযমের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আরও দুইদিন সময় চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক। এ বিষয়ে আজ সকালে আদেশ দিবে ট্রাইব্যুনাল। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার এক আদেশে বৃহস্পতিবারের মধ্যে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। এদিন যুক্তি উপস্থাপন শেষ না করলে তা বন্ধ ঘোষণা করা হবে বলেও ট্রাইব্যুনালের আদেশে বলা হয়। গতকাল যুক্তি উপস্থাপনকালে ইমরান সিদ্দিক বলেন, গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ১ থেকে ৬০ নম্বর পর্যন্ত কাউন্টে সাক্ষ্য-প্রমাণ হিসেবে সংবাদপত্রের কাটিংসহ জব্দকরা ডকুমেন্ট উপস্থাপন করা হয়েছে। ডকুমেন্টগুলোর সত্যতা যাচাই করেননি তদন্ত কর্মকর্তা। ট্রাইব্যুনালে জেরাকালে তদন্ত কর্মকর্তা এ কথা স্বীকার করেছিলেন। তাই এসব অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছে এমন বক্তব্য টিকে না। তিনি বলেন, নাগরিক জীবনে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য শান্তি কমিটি গঠনের পরিকল্পনা ও পরে গঠন করা হয়। এর পিছনে ক্ষতিসাধনের কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরাও এ কথা বলতে পারেননি। তাই শান্তি কমিটি গঠনকে ষড়যন্ত্র বলা যায় না। এ সময় বিচারপতি আনোয়ারুল হক বলেন, গোলাম আযম ‘দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য’ রাজাকারদের অস্ত্র সরবরাহের জন্য বলেছিলেন। তখন আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, গোলাম আযম দুষ্কৃতিকারী বলতে মুক্তিযোদ্ধাদের বুঝিয়ে ছিলেন। যদি তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে হত্যার জন্য অস্ত্র চাইতেন তবে সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনে উস্কানির অভিযোগ আনা যেত। গতকাল আসামিপক্ষ পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগের উপর যুক্তি উপস্থাপন শেষ করে। কামারুজ্জামানের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের পক্ষে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে। গতকাল প্রথমদিনে আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক আইনগত বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে তিনি বলেন, বদিউজ্জামান হত্যার ঘটনা সম্পর্কে রাষ্ট্রপক্ষের দুইজন সাক্ষী দুইরকম তথ্য দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষের চার নম্বর সাক্ষী বলেছেন, পাকিস্তান আর্মি ও আল-বদররা বদিউজ্জামানকে ধরে ক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতন করে। আর ষষ্ঠ সাক্ষী ডা. হাসানুজ্জামান বলেছেন ৮ থেকে ১০ জন সাধারণ মানুষ বদিউজ্জামানকে ধরে নিয়ে যায়। ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, দু’জন সাক্ষীকেই শিখিয়ে আনা হয়েছে। যুক্তি উপস্থাপন অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। গত ৩১ মার্চ প্রসিকিউশন তাদের যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেছে। আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হলে প্রয়োজনে তার জবাব দেবে রাষ্ট্রপক্ষ।