মানুষ যখন যুক্তি-প্রমাণে হেরে যায় কিন্তু হঠকারিতা ও জেদ ছাড়তে পারে না— তখন সে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে ধৃষ্টতাপূর্ণ পথই বেছে নেয়। মহানবীর সমসমায়িক বিভিন্ন ধর্মানুসারী সমপ্রদায় যারা ইসলামকে দলিল-প্রমাণ বা জ্ঞানভিত্তিক বিতর্কে নাকচ করতে পারেনি, তারা পেশিশক্তি, কুরুচিপূর্ণ নিন্দাবাদ ও অযৌক্তিক পন্থায় আক্রমণ করতো। যেমনটি কথায় আছে—‘নিরুপায় বিড়াল কুকুুরের দিকেও তেড়ে আসে।’ এটা তার অস্তিত্ব রক্ষার শেষ চেষ্টা। চোখের সামনে অনিবার্য পরাজয় দেখে স্রেফ মনের ঝাল মিটানোর মতো কাণ্ড। অসভ্য ও হঠকারী প্রতিপক্ষের কাছে যখন আপনার বিপক্ষে বলার মতো কিছু থাকে না তখন সে নানাভাবে আপনাকে গালমন্দ করতে শুরু করবে। বিশ্বনবী (স.) এর যুগ এবং পরবর্তীকালে মহান আল্ল¬াহ ইসলামকে যে আদর্শিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তার মুখোমুখী হতে গিয়ে যেসব লোক পরাজিত হয়েছে যুক্তি-প্রমাণ ও সামাজিক-রাজনৈতিক শক্তি হিসেবেও তারা গায়ের জোরে ও গালমন্দের পথ ধরে এগুতে চায়। আজ আধুনিক সভ্যতা ও উন্নত সংস্কৃতির দাবিদার সেজে যারা যাদের নিজের কৃষ্টি-কালচারের ডুগডুগি বাজায়, যারা মানবাধিকারের ধ্বজাদারী বলে ঢোল পিটায়, তাদের আর বর্বর-জাহিলী যুগের কূপমণ্ডুকদের মাঝে তেমন কোনো তফাত্ নেই। তত্কালীন সত্যবিমুখ, হঠকারী লোকদের মতো বর্তমানের ইসলামবিদ্বেষীদের কাছেও ইসলামের বিপক্ষে কোনো দলিল প্রমাণ নেই। যুক্তি-প্রমাণের ময়দানে তারা চূড়ান্তভাবে হেরে গেছে। আল্ল¬াহর রহমতে ইসলাম আজ তার সত্যতা ও সহজাত মহিমায় গোটা দুনিয়াকে জয় করে নিয়েছে। ইসলামের এসব শত্রুদের কাছে চাঁদের দিকে থুথু ছিটানোর মতো মহানবীর চরিত্র হননের বিফল চেষ্টা ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই। আজ ওরা সেই চেষ্টাই পুনর্বার শুরু করেছে। বস্তুত, এটা তাদের পতন, পরাজয় আর সর্বৈব ব্যর্থতার প্রমাণ। যুক্তি-প্রমাণে হেরে গিয়ে অনিঃশেষ অন্তর্জ্বালা মেটাতে তারা উন্মাদের মতো আচরণ করছে। এর বহিঃপ্রকাশ হিসেবে কখনও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এ মানুষটির চরিত্র হনন করে উদ্ভট ও নোংরা চলচ্চিত্র নির্মাণ করছে, কখনও কার্টুন ইত্যাদি প্রকাশ করছে। কখনো ব্লগে, ইন্টারনেটে আপত্তিকর কথা লিখছে। জ্ঞানী, যুক্তিবাদী ও সুস্থ বিবেকসম্পন্ন মানুষ প্রমাণ দিয়ে প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করে। যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করে বিপক্ষের দাবি। যুক্তির জবাবে তুলে ধরে পাল্টা যুক্তি। বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধে ব্যবহার করে কেবল জ্ঞানের হাতিয়ার। এ পথে অগ্রসর না হয়ে পেশীশক্তি প্রদর্শন, গালমন্দ ইত্যাদির আশ্রয় নেয়া প্রকারান্তরে নিজের মতাদর্শের অসারতাই স্বীকার করে নেয়ার শামিল। তারা রসূলের উপস্থাপিত প্রামাণ্য বক্তব্যের কোনো জবাব রাখে না; তাই ক্রোধের আগুন নিভাতে না পেরে অসভ্যতার পথ অবলম্বন করে। আর নাম দেয় মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। পরোক্ষে এটা নিজেদের পরাজয়েরই স্বীকৃতি। অন্যদিকে এর মাধ্যমে মুসলমানদের আত্মমর্যাদাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
ভাষান্তর :খন্দকার মুহাম্মদ হামিদুল্ল¬াহ
