তোমার আমার ভেতর এই কংক্রিটের সীমানাপ্রাচীর থাকার কথা নয়,
অথবা দীর্ঘ নদী, কাঁটাতার, সীমান্তরক্ষীর উদ্যত মেশিনগান,
আমরা পরাজিত করেছি টিকটিকি-রাজনীতি, এপারের বাতাস
আমার শরীর ছুঁয়ে পৌঁছে যায় ওপারে, সূর্য বোঝে না এই ভাগাভাগি
এই সীমান্তরেখা, চাঁদ-জোছনার লুকোচুরি এপার-ওপার শুভ্র চাদরে
একাকার করে দেয়, তোমার রুপালি মাছ ডুবসাঁতার দিতে দিতে
আমার জলের ভেতর মাথা গোঁজে, তোমার ভায়োলিন বাদন মুগ্ধতায়
আমাকেও আর্দ্র করে, দেয়ালের ওপাশ থেকে উড়ে আসে প্রজাপতি,
দোয়েলের শিস পৌঁছে যায় তোমার বারান্দায়, আমার মার্কারি
ঝাড়বাতির আলো মেঘের মতো ভাসতে ভাসতে ছুঁয়ে যায় তোমার
শাড়ির আঁচল, খোলা জানালায় তোমার আকাশ সারারাত নিঝুম
দাঁড়িয়ে থাকে, আমার বিছানা-বালিশে খুলে পড়ে দীর্ঘকাল ঝুলন্ত ঘড়ির
কাঁটা আর বেদনার্ত সময়, ক্যাম্বিসের জুতোজোড়া নিজ উদ্যোগেই
হেঁটে হেঁটে পেরিয়ে যায় সীমান্তরেখা, আমার দরজার সিসিটিভিতে
আমি বেড়ালের মতো বসে থাকি তোমার প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায়।
তুমি ফিরবেই, তোমার করতলে আমার চুম্বনের রেখাগুলো মুছে যাচ্ছে
ইতিহাসের মতো। অ্যামনেশিয়ায় আক্রান্ত মানুষ ঝাঁপ দিচ্ছে গঙ্গায়।
