যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পরমাণু হামলার সিদ্ধান্ত অনুমোদন দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্র প্রশান্ত মহাসাগরের গুয়াম দ্বীপে সর্বাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর উত্তর কোরিয়ার সরকারি দেশটির সেনাবাহিনীকে এই অনুমোদন দেয়। এদিকে, উত্তর কোরিয়া দুই কোরিয়ার যৌথ শিল্পাঞ্চল কাইসংয়ে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো দক্ষিণ কোরীয় কর্মীদের প্রবেশাধিকার বন্ধ রেখেছে।
বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিস্ফোরোন্মুখ পরিস্থিতি দ্রুত এগিয়ে আসছে এবং আজ হোক কাল হোক যুদ্ধ বাধবে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সিতে (কেসিএনএ) প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, সামরিক বাহিনীর অভিযান এরই মধ্যে পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে এবং পরমাণু হামলার অনুমোদন করা হয়েছে। এর আগে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্র গুয়াম দ্বীপে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানায়। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী চাক হেগেল বলেন, উত্তর কোরিয়া পরমাণু কর্মসূচির বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্র দেশগুলোর জন্য ক্রমশ হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাদের এখন পারমাণবিক শক্তি ও ক্ষমতা আছে। ক্ষেপণাস্ত্র চালানোর ক্ষমতাও তাদের আছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তারা পরমাণূ কর্মসূচি নিয়ে যে ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে তা উদ্বেগজনক ও আমাদের দেশসহ মিত্র দেশ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য হুমকিস্বরূপ।
বুধবার মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, আগামী সপ্তাহে দেশটি ব্যালিস্টিক টার্মিনাল হাই অ্যাটিচিউড এরিয়া ডিফেন্স সিস্টেম মোতায়েন করবে। এই সিস্টেমে আছে একটি ট্রাক মাউন্টেড লঞ্চার, ইন্টারসেপ্টর মিসাইল এবং এ এন/টিপিআই ২ ট্র্যাকিং রাডার। সেই সাথে আছে ইন্টিগ্রেটেড ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম। পেন্টাগন বলছে, গুয়ামে পর্যাপ্ত পরিমাণে সেনা নিয়োগসহ মিসাইল সিস্টেম স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার কথা ভেবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুয়ামে এই সিস্টেম মোতায়েনের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের আগে থেকেই ছিল। মিসাইল অ্যাডভোকেসি গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, পেন্টাগনের এমন সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যায়, যে পিয়ংইয়ং-এর হুমকিকে ওয়াশিংটন কতটা গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছে। কিন্তু এটাকে কেবল আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হবে, এর থেকে বেশি কিছু ভাবা হবে না। এদিকে, উত্তর কোরিয়ার সরকার দুই কোরিয়ার যৌথ শিল্পাঞ্চল কাইসংয়ে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো দক্ষিণ কোরীয় কর্মীদের প্রবেশাধিকার বন্ধ রেখেছে। এর ফলে দুই কোরিয়ার মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়ে যাবে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
