দোষ চাপিয়ে দায় এড়ানো যাবে না

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৩০
বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দের দাবি শেয়ারবাজারকে ডিমিউচুয়ালাইজেশন (মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা পৃথকীকরণ) করার ক্ষেত্রে ব্রোকার ডিলারদেরকে দোষারোপ করে অর্থমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের বিরোধিতা করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ডিএসই কার্যালয়ে অয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএসই প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান বলেছেন, সত্, সাহসী এবং ঈমানদাররা নিজের দোষ এবং ব্যর্থতা ঢাকার জন্য অন্যের ওপর দোষ চাপান না। সত্ ব্যক্তিরা সব সময় সমস্যার মোকাবেলা করে সততার সাথে তা সমাধানের চেষ্টা করে। অন্যের উপর দোষ চাপিয়ে নিজের দায় এড়ানো যায় না। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর ভাইস প্রেসিডেন্ট আহমেদ রশীদ লালীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আহমেদ রশীদ লালী বলেন, আমেরিকায় যখন ডিমিউচুয়ালাইজেশন হয় তখন অনেক ব্রোকার ডিলাররাই এর বিরোধিতা করেছিল। অথচ বাংলাদেশের একজন ব্রোকার ডিলারও এ ব্যাপারে কোনো আপত্তি করেনি। উপরন্তু স্বতঃস্ফূর্তভাবে ডিএসইর সব সদস্য তা বাস্তবায়নের জন্য বিএসইসির (বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন) সাথে যথেষ্ট সহায়ক ভূমিকা রাখছে। এরপরও সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে ব্রোকার ডিলারদেরকে দোষারোপ করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ডিএসই প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, বাজার স্থিতিশীলতার জন্য ডিএসই ইতিমধ্যে যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে বাজার সংশ্লিষ্ট সবাইকে তাদের নিজ নিজ কাজ সঠিকভাবে পালন করতে উদ্বুদ্ধ করছে। রকিবুর রহমান বলেন, ডিএসইর হাতে বাজার ভালো করার কোনো ইন্সট্রুমেন্ট নেই। বিশ্বের সব দেশেই বাজার স্থিতিশীলতার জন্য সরকার অর্থমন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সমন্বয়ে কাজ করে। তাই আমাদের দেশেও অর্থমন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে এগিয়ে আসতে হবে। বাজার স্থিতিশীল করতে ডিএসইর পক্ষ থেকে একাধিক সুপারিশ তুলে ধরে রকিবুর রহমান বলেন, পুঁজিবাজারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগজনিত ক্ষতির প্রভিশন গত ৩১ মার্চের পরিবর্তে ২০১৪ সালের ৩০ জুন থেকে পাঁচ ত্রৈমাসিকে সমন্বয় করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে বাজারের জন্য ইতিবাচক হবে। আগামী বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখার দাবি জানান ডিএসই প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, এ অর্থ প্রয়োজনের সময় পুঁজিবাজারে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুনঃঅর্থায়নের ভিত্তিতে স্বল্পসুদে ঋণ সহায়তা হিসেবে প্রদান করা যেতে পারে। তিনি আরো বলেন, পুঁজিবাজারে আগ্রাসী বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই। আমরা চাই বিনিয়োগের জন্য সরকারের নীতিগত সহায়তা। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হিসেবে ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে রকিবুর রহমান বলেন, সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত ব্যাংক কোম্পানি অ্যাক্ট ২০১৩ অনুসারে ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজারে তাদের পরিশোধিত মূলধনের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারবে। এতে শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ হ্রাস পাবে। তাই বাজারের স্বার্থে মোট নিয়ন্ত্রিত মূলধনের ২৫ শতাংশ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া দরকার। যা আইএমএফের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে।