হেফাজতের লংমার্চকে ঘিরে উত্তেজনা চরমে

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৪৮
হেফাজতে ইসলামের আগামীকাল শনিবারের ঢাকা অভিমুখী লংমার্চ কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ঘোষণা এসেছে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছে। হুমকি এসেছে রবিবার থেকে লাগাতার হরতাল কর্মসূচির। খেলার মাঠে একদিকে হেফাজতে ইসলাম, অন্যদিকে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিসহ ২৫টি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ প্রকাশ্য প্রতিপক্ষ। তবে পুরো ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে মূলত রাজনৈতিক খেলা। পেছন থেকে দুই প্রতিপক্ষকে দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক বলয়ের প্রচ্ছন্ন সমর্থনের বিষয়টি প্রকাশ্য না হলেও স্পষ্টত দৃশ্যমান। চলছে কৌশল, পাল্টা কৌশলের রাজনৈতিক দাবা খেলা। সবমিলিয়ে কঠিন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি গোটা দেশ। সৃষ্টি হয়েছে উদ্বেগ, উত্কণ্ঠা। মহানবী (সা.) ও ইসলাম অবমাননাকারী ব্লগারদের শাস্তিসহ ১৩ দফা দাবিতে আগামীকাল চট্টগ্রামের হাটহাজারিসহ সারাদেশ থেকে ঢাকা অভিমুখী লংমার্চের ঘোষণা আরও আগেই দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। এই লংমার্চ প্রতিরোধ এবং জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সারাদেশে ২৪ ঘণ্টার হরতালের ডাক দিয়েছে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ ২৫টি সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন। অনেকটা আকস্মিকভাবে বুধবার মধ্যরাতে এই হরতালের ঘোষণা দেয়া হয়। গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকেও শনিবার দুপুরের পর শাহবাগে সমাবেশ করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। হেফাজতে ইসলাম গতকাল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, শনিবারের হরতাল প্রত্যাহার করা না হলে রবিবার থেকে তারা সারাদেশে লাগাতার হরতাল শুরু করবে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। এইচএসসি ও সমমানের প্রায় ১০ লাখ পরীক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা পড়েছেন গভীর দুশ্চিন্তায়। হেফাজতে ইসলামের লংমার্চকে কেন্দ্র করে সরকারের ভূমিকাকেও সন্দেহের চোখে দেখছেন অনেকে। হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে গতকাল সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়েছে যে, সরকার তাদের সঙ্গে দ্বৈত আচরণ করছে। সরকার একদিকে তাদেরকে শনিবার মতিঝিলে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে। আবার একইদিন গণজাগরণ মঞ্চকেও ঢাকায় সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে। সমঝোতার জন্য গত কয়েকদিন ধরে সরকার প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে হেফাজতে ইসলাম ও ওলামা-মাশায়েখদের সঙ্গে প্রায় সিরিজ বৈঠক করছে। এর সমান্তরালে লংমার্চকে নিয়ন্ত্রণ কিংবা বাধাগ্রস্ত করার জন্য নানা পরিকল্পনাও নিয়েছে সরকার। হেফাজতের অভিযোগ, সরকারের ইঙ্গিতেই ২৫টি সংগঠন ২৪ ঘণ্টা হরতাল ডেকেছে। লংমার্চে যেন ব্যাপক লোকের সমাগম ঘটতে না পারে সেলক্ষ্যে কৌশলে অনুগত পরিবহন মালিক সংগঠনগুলোকে দিয়ে শনিবার স্বল্প সংখ্যক পরিবহন চলাচলের ব্যবস্থা করছে বলেও সরকারকে দুষছেন হেফাজতে ইসলামের নেতারা। জানা গেছে, লংমার্চ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সরকার এখনও হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসাবে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক কয়েকটি সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে হেফাজতে ইসলামের দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে পূরণ করার আশ্বাসও দেয়া হয়েছে। সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে, হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ নিয়ে চিন্তিত না হলেও এ কর্মসূচি ঘিরে জামায়াত-শিবিরের নাশকতার আশঙ্কায় সরকারে প্রচণ্ড উত্কণ্ঠা আছে। হেফাজতে ইসলামের লংমার্চে ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়েছে বিএনপি-জামায়াতসহ ১৮ দলীয় জোট। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অন্যতম শরিক এরশাদের জাতীয় পার্টিও লংমার্চে সমর্থন দিয়েছে। পীরসাহেব চরমোনাইয়ের নেতৃত্বাধীন ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন এবং লেখক, কবি ও গবেষক ফরহাদ মজহারের নেতৃত্বে সদ্য আত্মপ্রকাশ করা নাগরিক অধিকার রক্ষা কমিটিসহ ওলামা-মাশায়েখদের বিভিন্ন সংগঠন হেফাজতে ইসলামের লংমার্চের প্রতি সমর্থন দিয়েছে । অন্যদিকে, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ ২৫টি সংগঠনের ডাকা হরতালে সমর্থন দিয়েছে বাম রাজনৈতিক সংগঠনগুলো। হরতালে সমর্থনের পাশাপাশি আপসকামিতার পথ পরিহারের জন্যও গতকাল যৌথভাবে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি, গণঐক্য, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল, গণআজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, পার্বত্য জনসংহতি সমিতি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এই দশটি বাম দল। সূত্রমতে, শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ এবং সরকার সমর্থিত অন্যান্য রাজনৈতিক-সামাজিক ও ইসলামী মূল্যবোধ ঘরানার সংগঠনগুলোরও এই হরতালে প্রচ্ছন্ন সমর্থন রয়েছে। অবশ্য কারও পক্ষে-বিপক্ষে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আনুষ্ঠানিক অবস্থান না থাকলেও হেফাজতে ইসলাম ও বিএনপি-জামায়াতের পক্ষ থেকে তাদেরকে ২৪ ঘণ্টার হরতালের ‘নেপথ্য কারিগর’ বলে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গতকাল ঢাকা ও চট্টগ্রামে একই সময়ে সংবাদিক সম্মেলন করে শনিবারের হরতাল প্রত্যাহার করা না হলে রবিবার থেকে লাগাতার হরতালে যাওয়ার ঘোষণা দেয় হেফাজতে ইসলাম। রাজধানীর লালবাগে ইসলামী ঐক্যজোটের কার্যালয়ে হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমেদ শফির পক্ষে মহাসচিব জুনায়েদ বাবু নগরী ও প্রচার সম্পাদক আহাদ সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেছেন, সরকার তার দলের ও পক্ষের বিভিন্ন সংগঠনকে দিয়ে আমাদের কর্মসূচির দিনে হরতাল আহ্বান করিয়েছে। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী অভিযোগ করেন, সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রীর (এ কে খন্দকার) নেতৃত্বে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম ও ‘ইসলাম বিদ্বেষী’ শাহরিয়ার কবিরের নেতৃত্বে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি লংমার্চ বানচাল করার জন্য হরতাল ডেকেছে। লংমার্চ সামনে রেখে চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, কক্সবাজারের পেকুয়া ও চকরিয়ায় পুলিশ হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানি এবং সরকারের পক্ষ থেকে লংমার্চের জন্য বাস ভাড়া না দিতে মালিকদের চাপ দেয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ‘লংমার্চ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হলে তাতে বাধা দেয়া হবে না’ বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলেও কর্মসূচির সুযোগে কুচক্রি মহল নাশকতা চালাতে পারে বলে সন্দেহ করছে আওয়ামী লীগ। লংমার্চ থেকে যেকোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে বলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ। গতকাল বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সভায় তিনি বলেছেন, ‘আমাদের কাছে খবর এসেছে হেফাজতে ইসলামের লংমার্চে জামায়াত ঢুকে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। তাই ঐদিন তাদের নাশকতা ঠেকাতে আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হানিফ বলেন, জামায়াত-শিবির তাদের (হেফাজতে ইসলাম) কর্মসূচিতে অনুপ্রবেশ করে যাতে কোনো ধরনের নৈরাজ্য করতে না পারে এর জন্য শুক্রবার প্রতিটি থানায়, ওয়ার্ডে সভা করুন। অন্যদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ কর্মসূচিতে কোনো ধরনের সমস্যা তৈরি হলে সেজন্য সরকার সম্পূর্ণভাবে দায়ী থাকবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের বক্তব্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীর কথায় প্রমাণ হয় তারা গোলযোগ তৈরি করার ক্ষেত্র তৈরি করে রেখেছেন। পরিকল্পনা করে রেখেছেন কীভাবে গোলযোগ তৈরি করবেন এবং এর দায় বিরোধীদলের ওপর চাপাবেন। এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, সরকারের মদদপুষ্ট কিছু সংগঠন পাল্টা হরতাল ডেকেছে এবং কিছু পরিবহন মালিক সংগঠন পরিবহন বন্ধ করে দিচ্ছে। সবচেয়ে মারাত্মক হলো আওয়ামী লীগ বলছে তারা মাঠে থাকবে। অর্থাত্ তারা এটাকে বাধা দিতে চাচ্ছে। ২৫টি সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী সংগঠন এবং গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিরোধের ঘোষণার মধ্যেই হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশকে শনিবার বেলা ১১টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকায় শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। হেফাজতে ইসলামের ঢাকা কমিটির সদস্য সচিব জুনায়েদ আল হাবিব গত ৩০ মার্চ এ আবেদন করেছিলেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে মানিক মিয়া এভিনিউ, পল্টন ময়দান ও শাপলা চত্বরের মধ্যে একটি স্থান সমাবেশের জন্য চাওয়া হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তাদের মতিঝিলে সমাবেশ করতে বলেছে। শনিবারের সমাবেশে যোগ দিতে শুক্রবার জুমার নামাজের পর চট্টগ্রামসহ দেশের প্রতিটি জেলা থেকে লংমার্চ নিয়ে ঢাকার দিকে রওনা হওয়ার কথা ছিল হেফাজতে ইসলামের। তবে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা হরতাল ডাকায় আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে শুক্রবার ফজরের নামাজের পরই ঢাকার পথে রওনা হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। জানা গেছে, শুক্রবার ফজরের পর চট্টগ্রাম বন্দরনগরীর জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ থেকে হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। পাঁচ লাখেরও বেশি লোক ১০ হাজারের বেশি গাড়ি নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসবেন। বাসে যেতে বাধা দিলে পায়ে হেঁটেই ঢাকায় আসার চেষ্টা করবেন কর্মী-সমর্থকরা। তাছাড়া ঢাকায় আসার পথে যেখানেই বাধা দেয়া হবে সেখানেই বসে পড়ে সমাবেশ করা হবে। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার হরতালের ঘোষণা দিয়ে গতকাল সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এক সংবাদিক সম্মেলনে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসিরউদ্দীন ইউসুফ ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেছেন, জামায়াত-শিবিরের বেড়াজালে জড়িয়ে পড়া হেফাজতে ইসলাম নামের সংগঠন কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা অভিমুখে লংমার্চের ডাক দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব রাজনৈতিক দল, শ্রমিক সংগঠন, বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনকে হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ প্রতিহত করার আহ্বান জানান তারা। এদিকে লংমার্চের তিনদিন আগেই রাজধানীতে চলে এসেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীর দারুল উলুম মইনুল ইসলাম মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফি। বুধবার বিকালে চট্টগ্রাম থেকে তিনি ঢাকায় এসে পৌঁছান। শনিবারের এই লংমার্চ ঘিরে নাশকতার আশঙ্কা করছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর গতকাল বলেছেন, ‘আমাদের কাছে খবর আছে হেফাজতে ইসলামের লংমার্চে জঙ্গিবাদী শিবির ও বিপথগামী বিএনপির নেতারা নাশকতার চেষ্টা চালাবেন। কিন্তু তাদের অপচেষ্টা দমন করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।’