চট্টগ্রামের হাটহাজারীর দারুল উলুম মইনুল ইসলাম মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী ঘোষণা করেছেন, শনিবারের হরতাল প্রত্যাহার করা না হলে রবিবার থেকে লাগাতার হরতাল দেয়া হবে।
গতকাল পুরনো ঢাকার লালবাগে হেফাজতে ইসলামের মহানগর কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা বলা হয়। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতৃত্বে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ২৭টি সংগঠন হেফাজতে ইসলামের লংমার্চের প্রতিবাদে কাল শনিবার হরতাল কর্মসূচি দিয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, ‘সরকার সমর্থিত কয়েকটি সংগঠনের আহূত হরতাল কর্মসূচি প্রত্যাহার করা না হলে রবিবার থেকে আমাদের লাগাতার হরতাল কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এ থেকে পিছপা হওয়ার কোনো পথ আমাদের জন্য খোলা নেই।’
লংমার্চ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলন অরাজনৈতিক, শান্তিপূর্ণ ও অহিংস। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে বাধাগ্রস্ত করার সাথে আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই। শুধু ঈমান ও আক্বিদা হেফাজতের জন্যই আমাদের আন্দোলন, অন্য কিছু নয়। ১৩ দফার প্রতিটি দাবিই আমাদের ঈমান ও আক্বিদা হেফাজতের জন্য। কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য নয়।
লংমার্চ সফল করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শনিবার ঢাকা অভিমুখী লংমার্চ কাফেলাকে স্বাগত জানানোর জন্য আমি ঢাকায় চলে এসেছি। আপনারা ইসলাম ও দেশ রক্ষার লংমার্চকে সর্বাত্মকভাবে সফল করার লক্ষ্যে চিড়া-মুড়ি, শুকনো খাবার আর জায়নামাজ ও হাতে তাসবীহ নিয়ে আল্লাহর উপর ভরসা করে যিকরুল্লাহ পড়তে পড়তে ঢাকা অভিমুখে যাত্রা করুন। ইনশাআল্লাহ কোনো বাধা-প্রতিবন্ধকতাই আমাদের এই ঈমানী কাফেলাকে রুখতে পারবে না।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকার আগামী ৬ এপ্রিল আমাদের লংমার্চ কর্মসূচি বানচাল করার হীন অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। মন্ত্রী ও সরকার দলীয় নেতারা আমাদের ঈমানী আন্দোলনকে, হেফাজতে ইসলামকে জঙ্গি আন্দোলন আখ্যা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত এবং আলেম উলামাদের মধ্যে বিভেদের অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা লংমার্চে বাধা দেয়ার জন্য দলীয় ও স্থানীয় ক্যাডার এবং প্রশাসনের মাধ্যমে তা প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছে।
আল্লামা শাহ আহমদ শফীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পড়েন হেফাজতে ইসলাম-এর মহাসচিব মাওলানা জোনায়েদ বাবুনগরী এবং আল্লামা আহমদ শফীর সাহেবজাদা মাওলানা আনাস মাদানী।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, লংমার্চ আন্দোলন কাউকে গদি থেকে হটানো বা গদিতে বসানোর উদ্দেশ্যে নয়। নিরেট ঈমানের তাগিদে দেশ ও ইসলামের সুরক্ষার জন্য নিয়মতান্ত্রিক অহিংস, অসহিংস আন্দোলন। মুসলমান মাত্রই আমাদের দাবির সঙ্গে একমত হয়ে তার বিরুদ্ধে নিজ সাধ্যানুযায়ী প্রচেষ্টা করা ঈমানী দায়িত্ব। তা না হলে আমাদের ঈমান থাকবে না।
আরো বলা হয়, সারাদেশের পরিবহন মালিক সমিতিকে লংমার্চে অংশ গ্রহণকারী কাফেলাকে বাস ভাড়া না দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। লংমার্চ বাধাগ্রস্ত করার জন্য সব ধরনের অপতত্পরতা চালানো হয়েছে এবং হচ্ছে। লংমার্চ কাফেলার সমাবেশ স্থলের অনুমতি দেয়া হয়নি। ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলামানদের সর্বোপরি দেশের সর্বস্তরের তাওহিদী জনতাকে শনিবার সকাল ১০টার মধ্যে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে সমবেত হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী, খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা শাহ আহমদুল্লাহ আশরাফ, কুমিল্লা কাসেমুল উলুম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আশরাফ আলী, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, ফরিদাবাদ মাদরাসার মুহতামীম মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমান, খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুর রকীব, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, মুফতি ফয়জুল্লাহ, চট্টগ্রাম লালখান বাজার মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী, মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা জাফরুল্লাহ প্রমুখ।
