জন্মদিনে গানে গানে সন্জীদা খাতুনকে শ্রদ্ধা

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৪৯
তোমার শেষ নাহি, তাই শূন্য সেজে শেষ করে দাও আপনাকে যে ওই হাসিরে দেয় ধুয়ে মোর বিরহের রোদন ও মোর ভালোবাসার ধন- সন্জীদা খাতুনের ৮০তম জন্মদিনে গানে গানে এই বারতাই দিতে চাইলো ছায়ানটের সকল প্রাণ। জানাতে চাইলো তুমি আমাদের ভালোবাসার ধন। গতকাল সন্জীদা খাতুনের আশিতম জন্মদিনে হূদয় উজাড় করা ভালোবাসা সিক্ত করলো তাঁকে। পুরো অনুষ্ঠান এক কোণে বসে থেকে উপভোগ করলেন কিন্তু নিজে কোন কথা বললেন না। শিক্ষার সঙ্গে সংস্কৃতির যোগ চাই। যা আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বিশ্বমানব করে তুলবে — এই সাধনায় ব্রতী সন্জীদা খাতুন সারাজীবন অশিক্ষা, কূপমন্ডুকতা দূর করে মানুষের মনে শিক্ষা ও সংস্কৃতির বাতিঘর জ্বালাতে নিরন্তর সাধনা করে চলেছেন। গতকাল তার ৮০তম জন্মদিনে ছায়ানট আয়োজন করেছিল আনন্দ আয়োজনের। অনুষ্ঠানের সূচনা পর্বে সনজীদা খাতুনকে নিয়ে ‘সন্জীদা খাতুন: সাঙ্গীতিক অভিযাত্রা’ শিরোনামে লেখা পাঠ করেন সাংস্কৃতিক জন মফিদুল হক। জাতীয় রবীন্দ সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের শিল্পীদের সমবেত সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনন্দ অনুষ্ঠানের আয়োজনের সাংস্কৃতিক পর্ব। তারা পরিবেশন করেন ‘ঝরো ঝরো ঝরে রঙের ঝরনা’ গানটি। এই গানের রেশ কাটতে না কাটতেই মঞ্চে আসেন শিল্পী শারমিন সাথী ইসলাম। তিনি শোনান ‘পরদেশী মেঘ যাওরে ফিরে’। এর পর সুমন চৌধুরী শোনান ‘যাহা কিছু মম’ গানটি। নাসিমা শাহী ফ্যান্সি শোনান ‘হারানো হিয়ার নিকুঞ্জ পথে’, খায়রুল আনাম শাকিল গাইলেন ‘মাগো চিন্ময়ী রূপ ধরে আয়’, ইলোরা আহমেদ শুক্লা গাইলেন ‘এ জগতে আমি’। ইফ্ফাত আরা দেওয়ান শোনান,‘তোমারি তুলনা তুমি প্রাণ’, ফাহমিদা খাতুনের কণ্ঠে শোনা গেলো ‘পেয়েছি ছুটি বিদায় দেহ ভাই’ গানটি। পার্থ তানভীর নভেদ্ পরিবেশন করেন ‘বিশ্ব যখন নিদ্রামগন’। মাহমুদা খাতুন গাইলেন ‘তার বিদায়বেলার মালাখানি’। মহিউজ্জামান চৌধুরী গাইলেন ‘আমি চঞ্চল হে’। তানিয়া মান্নান পরিবেশন করেন মালা ‘হতে খসে পড়া’। লাইসা আহমদ লিসার সুললিত কণ্ঠে ভেসে উঠলো ‘ তোমায় নতুন পাব বলে’ গানটি। সবশেষে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন আগের ছিল জাতীয় রবীন্দ সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের আরও একটি সমবেত পরিবেশনা। তারা পরিবেশন করে ‘পারবি না কি যোগ দিতে এই ছন্দেরে’ গানটি। অনুষ্ঠানে দেখানো হয় আগরতলার পান্থজন নির্মিত ‘পথিক তুমি’। জহিরুল হক খান পাঠ করেন ‘রবীন্দ নাথের শেষ বসন্ত’। এছাড়া বেশ কিছু রেকর্ড বাজানো হয়। এর মধ্যে ছিল কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বাজে করুণ সুরে’, মালতি ঘোষালের ‘এ পরবাসে রবে কে হায়’। ক্যাসেট থেকে বাজান হয় গোলাম মোস্তফার একটি কবিতা।