৭ দফা দাবি আদায়ে শিক্ষক ও ৫ দফা দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের মুখে উত্তাল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। শিক্ষক আন্দোলনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদের বন্ধ থাকা ক্লাস-পরীক্ষা চালু, সেশনজট কমানোসহ ৫ দফা দাবিতে শিক্ষকদের পাশাপাশি গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করে। এছাড়া প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকসহ ভিতরের কলাপসিবল গেটগুলোতে তালা লাগিয়ে উপাচার্যসহ (ভিসি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে দিনভর অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভিসি ড. আমির হোসেন খানসহ কর্মকর্তাদেরকে তাদের কক্ষে অবরুদ্ধ অবস্থায় রেখে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করছিল।
জানা গেছে, কুবি শিক্ষক সমিতির ব্যানারে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রথমে ৫ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনে নামে শিক্ষকরা। পরবর্তীতে গত ১০ মার্চ ভিসি কর্তৃক তাদের দাবি পূরণের মৌখিক আশ্বাসের ভিত্তিতে শিক্ষকরা ক্লাসে ফিরে যান। দাবি না মানায় গত ২৭ মার্চ থেকে শিক্ষকরা তাদের আরো ২ দফা দাবিসহ ৭ দফা দাবি নিয়ে পুনরায় আন্দোলন শুরু করে। কুবি’র ক্লাস-পরীক্ষাসহ সকল একাডেমিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থেকে শিক্ষকরা তাদের পূর্বঘোষিত অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্দোলন কর্মসূচি ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করে আসছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত পরীক্ষাসমূহ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও ক্লাস বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত রাখে। এদিকে শিক্ষার্থীরা তাদের নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা চালু, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্লাস-পরীক্ষা নেয়া, আসন্ন গ্রীষ্মকালীন ছুটি বাতিল, সর্বোচ্চ ৫ মাসের মধ্যে সেমিস্টার কার্যক্রম সম্পন্ন করা, সেমিস্টারভিত্তিক একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রদানসহ ৫ দফা দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কুবি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে এবং ৫ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি উপাচার্যের বরাবরে দাখিল করে।
কুবি ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মাছুম জানান, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতসহ সেশনজট দূরীকরণ করতে ৫ দফা দাবিতে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা এ আন্দোলন করছে। শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. আহসান উল্যাহ ও যুগ্ম সম্পাদক আইনুল হক গতকাল বিকালে জানান, শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি থেকে উপাচার্য শিক্ষকদের বঞ্চিত করছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।
সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, আন্দোলনের মুখে উত্তাল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সাথে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের বৃহস্পতিবার বিকালে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আগামী রবিবার আরো আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাসে অবশেষে ৬ ঘণ্টা পর গতকাল সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. আমির হোসেন খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
