হরতাল ও লংমার্চের আগেই দূরপাল্লার সব বাস বন্ধ

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৫০
হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ কর্মসূচি এবং জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি বন্ধ করার দাবিতে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, বাংলাদেশ ইসলামি জোটসহ ২৭টি সংগঠনের ডাকে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শনিবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত ২২ ঘণ্টার হরতালের আগেই সারাদেশে দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকছে। তবে এ নির্দেশ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে বাস মালিকদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে। পরিবহন বাস বন্ধের ব্যাপারে মালিক সমিতির পক্ষ থেকে কেউই এর সত্যতা স্বীকার করেননি। তবে বিভিন্ন বাস মালিকগণ জানিয়েছেন, তাদেরকে দূরপাল্লার বাস বন্ধ রাখার মৌখিক নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে ঢাকা থেকে কোন বাস বাইরের জেলার উদ্দেশ্যে ছেড়ে না দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে কয়েকজন বাস মালিক জানিয়েছেন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল থেকে দেশের বিভিন্নস্থানে দূরপাল্লার বাস বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যদিও এ নির্দেশ মালিক সমিতির পক্ষ থেকে কোন লিখিতভাবে দেয়া হয়নি। সায়দাবাদ বাস টার্মিনালের একজন পরিবহন মালিক জানান, মালিক সমিতি থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে শুক্রবার সকাল থেকেই রাস্তা গাড়ি চলবে না। ঢাকা-কুমিল্লা রুটে তার কয়েকটি বাস চলাচল করে। মালিক সমিতির মৌখিক নির্দেশ পাওয়ার পর তিনি তার বাসগুলো কুমিল্লা থেকে ঢাকায় ফিরে আসার নির্দেশ দেন। এরকম ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী বাসের মালিকও একই তথ্য জানিয়েছেন এরকম রাজধানীর আভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী বাসগুলোকেও আজ সকাল থেকে চলাচল করতে নিষেধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা যেন চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসতে না পারেন-এ জন্য ঐ এলাকা থেকে বাস চলাচল অনেকটা বন্ধ থাকবে। হেফাজতে ইসলামের একটি সূত্র জানায়, সরকারের এরকম গোপন তত্পরতার কারণে অনেক কর্মীই চট্টগ্রাম থেকে বৃহস্পতিবার সকালে বাস ও ট্রেনে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে হেফাজতে ইসলামের অন্তত ৫ হাজার কর্মী ঢাকায় প্রবেশ করেছেন। কমলাপুর রেলষ্টেশন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম থেকে মহানগর প্রভাতী ও কর্ণফুলি এক্সপ্রেসে হেফাজতে ইসলামের অন্তত সহস্রাধিক কর্মী ঢাকায় পৌঁছেন। তবে আজ সকাল থেকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে আন্ত:নগর ট্রেনগুলো ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও চট্টগ্রাম রেলওয়ে ষ্টেশনে পুলিশের থাকবে কড়া নিরাপত্তা। হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা ঢাকা যেতে না পারেন-এ জন্য বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা রেলষ্টেশনে মোতায়েন থাকবেন। একইভাবে ঢাকায় কমলাপুর রেলষ্টেশন ও বিমানবন্দর রেলষ্টেশনে থাকবে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার কড়া নিরাপত্তা। গতকাল বিকালে চট্টগ্রাম থেকে কর্ণফুলি এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকায় আসা এক যাত্রী জানিয়েছেন, ট্রেনে ছিল হেফাজতে ইসলাম কর্মীদের ভিড়। অনেকেই সীট না পেয়ে দাঁড়িয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসেছেন। বৃহস্পতিবার বিকালের পর থেকেই রাজধানীতে যানবাহন চলাচল অনেক কমে গেছে। অনেকে বিনা প্রয়োজনে বাসা থেকেও বের হচ্ছে না। অনেক দোকান পাট ও বিপণিবিতান খোলা থাকলেও তাতে নিজস্ব নিরাপত্তা রয়েছে চোখে পড়ার মতো। এদিকে, পুলিশ বলছে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে তারা বাধা দেবে না। তবে সমাবেশের নামে সাধারণ মানুষের যান মাল নষ্ট ও গাড়িতে আগুন দেয় তা হলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বসে থাকবে না। পুলিশ বলছে রাজধানী বাসীর আতংকিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বেনজির আহম্মেদ বলেছেন, মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশকে শর্তসাপেক্ষে সমাবেশ ও মাইক ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে। আগামীকাল শনিবার বেলা ১১টা থেকে বিকাল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত এ অনুমতি দেয়া হয়েছে। মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশকে শর্তসাপেক্ষে সমাবেশ ও মাইক ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে। আগামীকাল শনিবার বেলা ১১টা থেকে বিকাল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত এ অনুমতি দেয়া হয়েছে। শর্তগুলো হলো: শাপলা চত্বর থেকে আরামবাগ হয়ে ফকিরাপুল ক্রসিং পর্যন্ত মাইক অথবা সাউন্ড বক্স ব্যবহার করা যাবে। সমাবেশের জন্য নির্ধারিত এলাকার বাইরে মাইক বা সাউন্ড বক্স ব্যবহার করা যাবে না। ফুটপাত ঘেঁষে মঞ্চ বসাতে হবে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়া যাবে না। নির্ধারিত সময় অর্থাত্ বিকাল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে সমাবেশ শেষ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে কোনো স্থানে সমবেত হওয়া যাবে না। সমাবেশের নির্ধারিত এলাকার বাইরে কোথাও যান ও জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা যাবে না। সমাবেশ চলাকালে আইন-শৃঙ্খলা-পরিপন্থি ও জনস্বার্থবিরোধী কার্যকলাপ চালানো যাবে না।