প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া

নারায়ণগঞ্জে শামীম ওসমানের সঙ্গে আলেমদের বৈঠক

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৫১
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একজন ধর্মভীরু আখ্যায়িত করে তার জন্য দোয়া করলেন নারায়ণগঞ্জ হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতা মাওলানা আব্দুল আওয়াল। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে হেফাজতে ইসলাম ও প্রকৃত ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন পাঁচ শতাধিক আলেম, ওলামা মাশায়েখ। গত বুধবার রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া বাগে জান্নাত মাদ্রাসায় সাবেক এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমানের আহ্বানে এক সৌজন্য সাক্ষাতে তারা একথা বলেন। রাত সাড়ে ৯টা থেকে রাত সোয়া ১২টা পর্যন্ত রুদ্ধদ্বার এই বৈঠক চলে। বৈঠকে শহর ও শহরতলীর প্রায় সকল মসজিদের ইমামসহ পাঁচ শতাধিক আলেম ওলামারা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক সূত্র জানান, আলেমরা বলেছেন ১২ বছর আগে শামীম ওসমানের ডাকে সাড়া দিয়ে তারা নারায়ণগঞ্জের টানবাজার ও নিমতলী পতিতাপল্লী উচ্ছেদ আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। শামীম ওসমানের প্রতি তাদের সহানুভূতি রয়েছে বিধায় তার ডাকে তারা সাক্ষাতে মিলিত হন। সূত্র জানায়, শামীম ওসমান উপস্থিত আলেম ওলামাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি সবসময় সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী। পাশাপাশি আমি একজন ধর্মভীরু মুসলমানও বটে। ইসলামের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে সে আমার শত্রু হিসেবেই গণ্য হবে।’ শামীম ওসমান তার বক্তব্যে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে তাদের উদ্দেশে বিভিন্ন প্রশ্ন রাখেন। তিনি বলেন, মহানবী (সা.) বলে গেছেন অন্য ধর্মের প্রতি কোন কটূক্তি করা যাবে না, তাই অন্য ধর্মাবলম্বীদের হেফাজত করার দায়িত্ব প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানের। তাহলে সারাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর যে নির্যাতন চলছে তা ইসলাম সায় দেয় কিনা? পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামের সাথে প্রকৃত ইসলামের সম্পর্ক আছে কিনা সে ব্যাপারেও শামীম ওসমান প্রশ্ন রাখেন। সূত্র জানায়, সাক্ষাত্ শেষে হেফাজতে ইসলামের নারায়ণগঞ্জের আহ্বায়ক ও ডিআইটি মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল আওয়াল দোয়া করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর হেফাজতের জন্য ও সকলের হেদায়াতের জন্য বিশেষ দোয়া করেন। এ ব্যাপারে মাওলানা আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘দীর্ঘ ১২ বছর পরে শামীম ওসমানের সাথে আমার সরাসরি সাক্ষাত্ হয়েছে। অনেক বিষয়েই কথা হয়েছে এবং মসজিদে সকলে মন থেকে সত্য কথাই বলেছেন। আমরা দোয়া করেছি প্রধানমন্ত্রীকে যেন আল্লাহ হেফাজত করেন এবং সকল মুসলমানকে যেন আল্লাহ হেদায়াত দান করেন, তারা যেন ইসলামের জন্য কাজ করতে পারেন। তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম নারায়ণগঞ্জে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেবে না। তাছাড়া জামায়াতে ইসলামের সাথে তাদের নীতিগতভাবে কোন সম্পর্ক নেই বলে দাবি করে তিনি বলেন, তাদের সাথে আমাদের ইসলামিক ব্যাপারে বহু আগে থেকেই মতপার্থক্য আছে। সাক্ষাতের বিষয়ে শামীম ওসমান বলেন, ‘মূলত চলমান পরিস্থিতিতে যাতে নারায়ণগঞ্জে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্যই এই সৌহার্দ্য সাক্ষাতের ব্যবস্থা করেছিলাম। আলেম সমাজকে ধন্যবাদ, তারা আমার ডাকে সাড়া দিয়েছেন। সেখানে অনেক ব্যাপারেই কথা হয়েছে এবং শেষে দেশ, জনগণ ও প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করা হয়েছে।’