বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে আরো সাড়ে তিন বছরের জন্য পুন:নিয়োগ পেয়েছেন ড. আতিউর রহমান। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, ২০১৬ সালের ২ আগস্ট পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে বহাল থাকবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পাওয়া ড. আতিউর রহমান ২০০৯ সালের পহেলা মে ১০ গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেন। চার বছরের চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল। সাধারণত চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ চার বছর হয় কিন্তু অপরদিকে সরকারি চাকরির মেয়াদ ৬৫ বছর। সে অনুযায়ী ২০১৬ সালের ২ আগস্ট আতিউর রহমানে বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় সে পর্যন্ত তাকে আবারো চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
জানা গেছে, সরকারের শেষ সময়ে এসে নতুন ব্যক্তিকে গভর্নর পদে নিয়োগ দিতে চায়নি সরকার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের সঙ্গে শেষ সময়ে কাজে সমন্বয়হীনতা তৈরি হতে পারে বলে একই ব্যক্তিকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দিল সরকার। অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বিশৃংখলার ঘটনা ঘটে এ গভর্নরের সময়ে। এসময়ে হলমার্ক কেলেঙ্কারি, বিসমিল্লাহ গ্রুপের জালিয়াতি, ব্যাংকগুলোর ঋণ খেলাপী বেড়ে যাওয়ার মত খারাপ উদাহরণও রয়েছে।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বিগত চার বছরে ব্যাংকিং খাতে যে ধরনের অগ্রগতি হয়েছে তা অন্যান্য সময় হয়নি। বিশেষ করে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মকাণ্ডে এ গভর্নর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে সম্পৃক্ত করেছে। এ জন্য পুনরায় ড. আতিউর রহমানের নিয়োগ পাওয়াকে তারা খুব ইতিবাচক হিসেবে দেখছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, বর্তমান গভর্নরের জন্ম ১৯৫১ সালের ৩ আগস্ট। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের প্রফেসর এবং বিআইডিএসের ঊর্ধ্বতন গবেষক ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে ড. আতিউর রহমান শিশু বিশেষজ্ঞ প্রফেসর সাহানা রহমানের স্বামী এবং তিন কন্যার পিতা।
