রাজনৈতিক আলোচনায় ফের তোফায়েল মেনন

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৫৩
হঠাত্ আবারও আলোচনায় ঝড় তুললেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদ ও মহাজোটের শরীক ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন। এ দুই নেতা গত বুধবার অর্থমন্ত্রী আহূত এক সভায় দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের বিদ্যমান কৌশল নিয়ে তীর্যক মন্তব্য করে আলোচনায় ঝড় তুলেছেন। এ সভায় তোফায়েল আহমেদ বলেন, সরকার দিশাহীন অবস্থায় চলছে। দুই নৌকায় পা দিয়ে সবই হারাতে হবে। তাই আমাদের লক্ষ্য স্থির করে অগ্রসর হতে হবে। অপরদিকে রাশেদ খান মেনন দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশ কোথায় যাচ্ছে তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। সরকার একদিকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে অন্যদিকে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে আলোচনা করছে। এতে সরকারের আম ও ছালা দু’-ই যাবে। সরকারের এই দুই নেতার বক্তব বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের মধ্যে অস্বস্থিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করে ইত্তেফাককে বলেন, এ দুই নেতা গিয়েছিলেন প্রাক-বাজেট আলোচনায়। কিন্তু সেখানে তারা অপ্রাসঙ্গিকভাবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করে সরকারকে বিব্রত করতে চাইছেন। এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কী না তা খতিয়ে দেখা দরকার। মহাজোটের শরীক দলের এক নেতা বলেন, তোফায়েল আহমেদ ও রাশেদ খান মেনন এর আগেও ১৩ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিত্ব প্রত্যাখ্যান করে সরকারকে বিব্রত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ব্যর্থ হন। এ দিন মন্ত্রিসভায় রদবদল করা হয়। এতে তাদের দু’জনকে মন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণের আহবান জানানো হলেও তারা তাতে সম্মতি দেননি। বরং তাদের মন্ত্রিত্ব গ্রহণের আহবানেরও সমালোচনা করেন। রাশেদ খান মেনন সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ আনেন এবং গণতান্ত্রিক রীতি অনুসরণ না করে মন্ত্রিত্ব গ্রহণের কথা বলায় তা প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে মন্তব্য করেন। তোফায়েল আহমেদ বলেন, মন্ত্রিত্ব নয়, রাজনীতিই তার কাছে বড়। সে সময়ে কিছুদিন ধরে তাদের এ ভূমিকা সমগ্র রাজনৈতিক অঙ্গনকে আলোড়িত করেছিল। দীর্ঘ সাতমাস পর এখন আবার তারা আলোচনায় উঠে এসেছেন। তাদের তীর্যক মন্তব্যে শুধু যে জোট-মহাজোটের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে তাই নয়, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকেও এ নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যাচ্ছে। অপরদিকে পরিকল্পনা মন্ত্রী এ কে খন্দকারের লেখা ‘মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর’ বইয়ে মুক্তিযুদ্ধ এবং এর ঘোষণা সম্পর্কে করা মন্তব্য নিয়েও তিনি সরকারি দলের রোষানলে পড়েছেন। এ বইয়ে তিনি লিখেছেন, ‘রাজনৈতিক নির্দেশ ছাড়াই মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল এবং তত্কালীন মেজর জিয়ার ঘোষণা দেয়ার পর মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করলো এবার বাংলাদেশ একটা যুদ্ধে নামলো’। তার এ মন্তব্যের সঙ্গে দেশের প্রকৃত ইতিহাসের মিল না থাকায় ক্ষমতাসীন দলে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।