আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, হেফাজতে ইসলাম লংমার্চের নামে সহিংসতা করলে কঠোর হাতে দমন করা হবে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে ছাড় দেয়া হবে না। তিনি বলেন, আমাদের হাতে গোয়েন্দা রিপোর্ট এসেছে, হেফাজতে ইসলামের লংমার্চে জামায়াত-শিবির ও বিএনপি অনুপ্রবেশ করে সহিংসতা করার পরিকল্পনা করছে। এ ব্যাপারে দলীয় নেতাকর্মীদের আগামীকাল শনিবার লংমার্চ চলাকালে রাজপথে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি এই বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। সভায় হেফাজতে ইসলামের নেতাদের লংমার্চ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে মাহবুব-উল আলম হানিফ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আজ শুক্রবার রাজধানীর প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সভা করুন। আগামীকাল রাজপথে সতর্ক থাকুন। যদি কোন সংগঠন নাশকতা করতে চায় তাহলে তাদের কিভাবে ঠেকাতে হবে তা বাঙালি জানে।
হেফাজতে ইসলামের উদ্দেশে হানিফ বলেন, হেফাজতে ইসলামকে কেউ যেন ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে আপনাদেরই সতর্ক থাকতে হবে। অন্যের ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করবেন না। প্রয়োজনে লংমার্চের কর্মসূচি প্রত্যাহার করুন। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ইসলামকে অবমাননা করায় চারজন ব্লগারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যারা ব্লগে ধর্ম নিয়ে ভবিষ্যতেও কটূক্তি করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, কারো যদি কোন দাবি থাকে তাহলে সরকারের কাছে আসুন। সরকার অবশ্যই আপনাদের দাবি পূরণ করবে। অন্যথায় জামায়াত-বিএনপির টাকা খেয়ে ইসলামের হেফাজতের নামে জামায়াতকে হেফাজত করবেন না।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, লংমার্চের নামে কোনো রকম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না। এটাকে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে হবে। তিনি বলেন, মাথায় কাফনের কাপড় বাঁধেন, রাজধানীবাসীকে রক্ষা করতে হবে। এটা আওয়ামী লীগের অস্তিত্বের লড়াই, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার লড়াই।
আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, হেফাজতের নামে তারা কোন সহিংসতা করলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও ঘরে বসে থাকবে না। জানমালের নিরাপত্তা দিতে এবং পুলিশ প্রশাসনকে সহায়তা করতে নেতাকর্মীরা আগামীকাল রাজপথে থাকবে।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন মিয়ার সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. সেলিম, প্রচার সম্পাদক আবদুল হক সবুজ, দপ্তর সম্পাদক সহিদুল ইসলাম লিমন প্রমুখ। বর্ধিত সভায় মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ড, থানা কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্মেলন করারও তাগিদ দেয়া হয়।
