আগামী জুন মাসে সাত সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সিটি করপোরেশনগুলো হচ্ছে-রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও গাজীপুর। এছাড়াও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নিয়ে দায়েরকৃত রিট পিটিশন দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে ইসি। কমিশন আশা করছে চলতি মাসের মধ্যেই ঢাকার দুই সিটি নিয়ে উদ্ভূত রিট পিটিশনের নিষ্পত্তি হবে। ফলে ঢাকার সিটি নির্বাচনও একই সময়ে করতে চায় কমিশন। এদিকে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে আগামী সোমবার (৮ এপ্রিল) কমিশন সভা আহবান করেছে।
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরে-শন) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজশাহী ও সিলেট, ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে খুলনা, ৭ অক্টোবরের মধ্যে বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করতে হবে। এছাড়া নবগঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনও ১৫ জুলাই-এর মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু জুলাই থেকে রোজা শুরু হবে। এরপর রয়েছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি। এছাড়া সরকারের নীতি-নির্ধারকও জুনে সিটি করপোরেশন নির্বাচন করতে আগ্রহী। নীতি-নির্ধারকরা মনে করেন, এই সময়ে নির্বাচন হলে বিরোধী দলের আন্দোলনে ভাটা পড়তে পারে।
ঢাকার দুই ডিসিসি ছাড়া বাকি ৫ সিটি করপোরেশনের ভোটারের সিডি আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে প্রস্তুত করা হচ্ছে । ভোটার তালিকা প্রস্তুত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবারের বৈঠকে ৫ সিটির তফসিল চূড়ান্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জাবেদ আলী ইত্তেফাককে বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণের আগেই সিটি করপোরেশনগুলোর নির্বাচন করতে হবে। এর সঙ্গে রাজনীতি বা আন্দোলনের কোন সম্পর্ক নেই। এগুলো হচ্ছে আইনের বিধান। ইতিমধ্যে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। আমরা আশা করছি কয়েকদিনের মধ্যেই ভোটার তালিকার সিডি পাওয়া যাবে। ফলে নির্বাচন আয়োজনে আর কোন বাধা থাকবে না। তবে ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন আয়োজন নির্ভর করছে আদালতের উপর।
এদিকে একটি সূত্র জানায়, ৬ জুন থেকে ২০ জুনের মধ্যে এসব সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজন করার জন্য ইসি সচিবালয় থেকে একটি প্রস্তাবনাও প্রস্তুত করা হয়েছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা উঠলেই ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজন করবে কমিশন। এ জন্য ভোটারের সিডিও প্রস্তুত করা হচ্ছে। ৭ সিটির মধ্যে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন একদিন অথবা এক সপ্তাহের ব্যবধানে অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন মেনে ইতোমধ্যে নির্বাচনের প্রস্ততি শুরু হয়ে গেছে। পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ওয়ার্ডভিত্তিক ভোটার তালিকা প্রস্তুত, নির্বাচনী সব ধরনের মালামাল প্রেরণ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মুদ্রণ, মনোনয়ন ফরম, নির্বাচনী ম্যানুয়াল ও বিভিন্ন নির্দেশিকা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে ঋণ খেলাপির বিষয়ে তথ্য চেয়ে চিঠি, মাঠ পর্যায়ে নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ, নির্বাচনী আচরণবিধিসহ বিভিন্ন বিধিমালা দেখভাল বিষয়ে টিম গঠন ও পরিপত্র জারি, প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের প্যানেল গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল নিয়োগ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ প্রদানের বিষয়ে কমিশনের সংশ্লিষ্ট শাখাকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
আগামী সোমবারের বৈঠক প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ ইত্তেফাককে বলেন, আগামী সপ্তাহে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, পাঁচ সিটি নির্বাচন, উপনির্বাচন ও সংসদীয় আসন সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিষয়ে কমিশন বৈঠকে বসবে।
নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক ইত্তেফাককে বলেন, সিটি করপোরেশনগুলোর নির্বাচন আয়োজনের জন্য একটি খসড়া প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছিল। সেটিকে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বলেছে কমিশন। সেই অনুযায়ী কাজ চলছে। আগামী সোমবারের কমিশনের সভায় এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা হবে।
