হ র তা ল

ক্ষতির হিসাব কষছেন ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৩, ১৮:২৬
দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা দিনকে দিন বাড়ছে। এর ফলে হরতাল অবরোধও বাড়ছে সমান তালে। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য এই অস্ত্রের ব্যবহার খুবই জনপ্রিয় এখন। এর ফলে সাধারণ জনগণের সাথে সাথে দফারফা হয়ে যাচ্ছে ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তাদের। অথচ তারাই অর্থনীতির চাকা ঘোরান। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের আবেদন নিবেদনে রাজনৈতিক দলগুলো কার্যত সাড়া দিচ্ছেন না। ব্যবসায়ীরা বসে হিসাব কষছেন প্রতিদিনের হরতাল অবরোধে কী পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে। আরো কী ক্ষতি হতে পারে। ভবিষ্যতে এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠার উপায় কী বা আদৌ কাটিয়ে উঠা যাবে কি না। হরতালের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ব্যবসায়ীদের সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) সমপ্রতি একটি পরিসংখ্যান দিয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিদিনের হরতালে আর্থিক সংশ্লিষ্ট খাতসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। এর মধ্যে তৈরি পোশাক খাতে ৩৬০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়। এছাড়া সরকারের রাজস্ব আদায়ে ক্ষতি হয় ২৫০ কোটি টাকা। পাইকারি বাজার, শপিং মল, শো-রুম, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ৬০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। এছাড়া শিক্ষা খাতে ৫০ কোটি, আর্থিক খাতে ৫০ কোটি, ইন্স্যুরেন্স খাতে ১৫ কোটি, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৬০ কোটি, পর্যটন শিল্প খাতে ৫০ কোটি, উত্পাদন খাতে ১০০ কোটি ও অন্যান্য খাতে ৬৫ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। ডিসিসিআই হিসাব করে দেখিয়েছে বছরে গড়ে ৪০ দিন হরতাল হলে ৬৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। হিসাব অনুযায়ী, চার দিনের হরতালে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার তৈরি পোশাক পণ্য স্টকলট (যথাসময়ে জাহাজীকরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় অর্ডার বাতিলকৃত পণ্য) হয়েছে। এতে প্রায় সাড়ে ৫০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। হরতালের কারণে পোশাক শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে সমস্যার কারণে আর্থিক ক্ষতি হয়। এই সময়ে অর্ডার বাতিল হয়। এছাড়া সমপ্রতি রাজনৈতিক অস্থিরতায় এই খাতের প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার অর্ডার অন্য দেশে চলে গেছে বলে জানিয়েছে তৈরি পোশাক উত্পাদকদের সংগঠন বিজিএমইএ। এছাড়া পাইকারী বাজার, শপিং মল, শো-রুম ও ছোট ব্যবসায়ীদের প্রায় ২০ লাখ দোকান বন্ধ থাকে। এর ফলে গড়ে প্রতিটি দোকানের ৩ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়। দেশে চলতি অর্থবছরে প্রাক্কলিত মোট দেশজ উত্পাদন (জিডিপি) ৯ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসেবে এক বছরের হরতালে জিডিপি’র প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ ক্ষতি হয়। এই হরতাল না হলে জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি ‘ডাবল ডিজিট’ হতে পারত বলে মনে করে ঢাকা চেম্বার। চলমান সহিংসতা দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়ও ব্যাপকভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। এতে নতুন করে বিদেশে বাংলাদেশ ভাবমূর্তি সংকটে পড়ছে। এক সময় শ্রীলঙ্কায় তামিল সমস্যার কারণে তাদেরকে অনেক মাশুল দিতে হয়েছে। বাংলাদেশ সে সময় ঐ সুযোগ কাজে লাগিয়েছে। দেশটি তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে ঐ সমস্যা থেকে কাটিয়ে উঠেছে। প্রতিবেশী মায়ানমারের সামরিক সরকারও অর্থনীতির কথা বিবেচনা করে দেশটির গণতন্ত্রপন্থী নেত্রীকে মুক্তি দিয়েছে। দেশটিতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ বিনিয়োগকারীরা দেশটিতে যাওয়ার কথা চিন্তা করছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতও ধর্ম, বর্ণ, গোত্র আর মতের অমিল থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছে। পাকিস্তানের মত সংকটাপন্ন দেশও একটা রাজনৈতিক সমাধান বের করতে সমর্থ হয়েছে। এরকম অনেক উদাহরণ আছে, যেসব দেশ সমস্যা সমাধান করতে সমর্থ হয়েছে বা অনেকখানি এগিয়ে গেছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে ভৌগোলিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকায় বাংলাদেশও বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি অন্যতম আদর্শ গন্তব্য হতে পারে। ব্যবসায়ীরা আশা হারাতে রাজি নন। তারা মনে করেন সমস্যা সমাধানে সফলদের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্রুত তা সমাধান করতে পারবেন তারা। এ জন্য বড় দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অন্তত একজনকে উদারতা দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। রাজনৈতিক সমাধান বের করতে সমর্থ হয়েছে। এরকম অনেক উদাহরন আছে, যেসব দেশ সমস্যা সমাধান করতে সমর্থ হয়েছে বা অনেকখানি এগিয়ে গেছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে ভৌগলিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকায় বাংলাদেশও বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি অন্যতম আদর্শ গন্তব্য হতে পারে। ব্যবসায়ীরা আশা হারাতে রাজি নন। তারা মনে করেন সমস্যা সমাধানে সফলদের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্রুত তা সমাধান করতে পারবেন তারা। এ জন্য বড় দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অন্তত একজনকে উদারতা দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।