একজন আজিরন বেওয়া

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৩, ২০:০৭
তাজুল ইসলাম রেজা, গাইবান্ধা প্রতিনিধি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার যমুনা নদীবেষ্টিত ফুলছড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম দেলুয়াবাড়ির চরের আজিরন বেওয়া গ্রামে এখন অনুকরণীয় এক নারীতে পরিণত হয়েছেন। দরিদ্র কৃষক পরিবারের আজিরনের মাত্র ১৪ বছর বয়সে বিয়ে হয় দরিদ্র কৃষক নূরুল ইসলামের সাথে। অভাব অনটনের সংসারে তিন বেলার খাবারও জুটতো না তার। এ অবস্থায় ৮ আর ৬ বত্সরের দু’টি সন্তান রেখে সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে বিনা চিকিত্সায় মারা যায় তার স্বামী। দিশেহারা আজিরন জীবন জীবিকার তাগিদে পিতার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। নিজের আর দু’টি সন্তানের দুবেলা ভাতের জন্য তাকে অন্যের বাড়িতে ঝি এর কাজ করতে হয়। কিন্তু অতিকষ্টে দিন আর চলতে চায় না। এমনি অমানিশার আঁধারে আলোর পথ দেখায় ২০১০ সালে এসকেএস ফাউন্ডেশন নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী উন্নয়ন সংগঠন। দরিদ্র প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তাদের উদ্যোগে অক্সফ্যামের সহায়তায় শুরু হয় দেলুয়াবাড়ি চর গ্রামে রি-কল প্রকল্প। প্রকল্পের আওতায় ওই গ্রামের ১০ জন নারীকে মাদুর তৈরি বিষয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেককে দেয়া হয় ১৮ হাজার টাকা তহবিল। শুরু হয় আজিরনের ভাগ্য উন্নয়নের পথচলা। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। এখন সে নাটোর জেলার রানীনগর থেকে মাদুর তৈরির বিশেষ উপকরণ এনে নিজে মাদুর তৈরি করে জেলার বিভিন্ন হাটে পাইকারের কাছে বিক্রি করে। এতে ব্যয় বাদে প্রতিদিন তার আয় হয় দেড়’শ থেকে ২শ’ টাকা। মা আর দু’টি সন্তানের এখন সুখের সংসার। ছেলে দু’টি স্কুলে লেখাপড়া শিখছে। শুধু আজিরন নয় রি-কল প্রকল্পের মাধ্যমে দেলুয়াবাড়ির চর গ্রামের ১০টি নারীর পরিবারের ৫৩ জন মানুষের জীবন জীবিকার উন্নয়ন ঘটিয়েছে।