পাইলোনিডাল সাইনাস

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৩, ২০:২৪
•প্রফেসর ডাঃ আনিসুর রহমান • কো-অর্ডিনেটর এন্ড সিনিয়র কনসালটেন্ট জেনারেল এন্ড ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি এ্যাপোলো হসপিটালস ঢাকা পাইলোনিডাল শব্দের অর্থ হচ্ছে গুচ্ছচুল, সাইনাস বলতে বোঝায় শরীরের যে কোন জায়গায় একটি ছোট অস্বাভাবিক সরু সুড়ঙ্গের মত পথ। পাইলোনিডাল সাইনাস হচ্ছে তেমনই একটি সরু পথ যাতে চুল বা লোম থাকে। সময়ে সময়ে এই পথটি থেকে ত্বকে পুঁজ নিঃসৃত হয়। এটি মলদ্ব্বার থেকে কিছু দূরে সামান্যা উপরে দুই নিতম্বের মাঝে ত্বকের নীচে লম্বালম্বি ভাবে তৈরী হয়। এই স্থান ছাড়া শরীরের অন্য কোন স্থানে পাইলোনিডাল সাইনাসের উপস্থিতি খুবই বিরল। চিকিত্সা হিসাবে এই রোগের অপারেশনের প্রয়োজন হয়। অপারেশনের পরে, নিয়মিত শেভ করার মাধ্যমে বা অন্য উপায়ে লোম দূর করার মাধ্যমে, ঐ স্থানটি লোম মুক্ত রাখতে হবে। পাইলোনিডাল সাইনাস কাদের হয় শিশুদের ক্ষেত্রে এবং চল্লিশোধর্ব লোকের ক্ষেত্রে এই রোগ বিরল, এটি নারীর তুলনায় পুরুষের ক্ষেত্রে চারগুণ বেশি হয়, কেননা পুরুষের শরীর নারীর তুলনায় বেশি লোমশ হয়। কিছু কিছু কারণে এই রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। যেমন- পেশাগত কারণে দীর্ঘক্ষণ বসে বসে কাজ করা, অতিরিক্ত শারীরিক ওজন বা স্থুলতা, আক্রান্ত স্থানে আগে থেকেই ক্রমাগত আঘাত বা খোঁচা লাগা, দুই নিতম্বের মাঝে লোমশ ও গভীর ভাঁজ অথবা পরিবারের অন্য কারোর এই রোগের ইতিহাস থাকা। সেনাবাহিনীর জীপ চালকদের মধ্যে সচরাচর এই রোগ দেখা যেতো বিধায় একে ‘জীপ সীট’ নামেও ডাকা হতো। দীর্ঘ সময় জীপ চালানো এবং শক্ত সীটের উপর ঝাঁকি খাওয়ার কারণে ক্রমাগত দুই নিতম্বের মাঝের খাঁজে খোঁচা বা সামান্য আঘাত বা চাপের কারণে বোধকরি তাদের এই রোগ সহসাই দেখা যেতো। পাইলোনিডাল সাইনাসের উপসর্গগুলো কি কি প্রথম দিকে এটি একেবারেই উপসর্গহীন হতে পারে। আপনি টেরই পাবেন না যে, এই রোগ আপনার হয়েছে। কারও কারও ক্ষেত্রে একটি ব্যথাহীন চাকা হিসাবে এটি আক্রান্ত স্থানটি ধোয়ার সময় হাতে লাগতে পারে। তবে এক পর্যায়ে এটি উপসর্গের জন্ম দেয় যা তীব্র ও সহসা হতে পারে অথবা থেমে থেমে ক্রমাগত দীর্ঘ সময় ধরে হতে পারে। দুই নিতম্বের মাঝের খাঁজে হঠাত্ই পাইনোনিডাল সাইনাস প্রচন্ড ব্যথার সাথে পুঁজযুক্ত চাকা নিয়ে আশে পাশের ত্বকে ইনফেকশন সহকারে কয়েকদিনের মধ্যে তীব্র রূপ ধারণ করতে পারে। এছাড়া প্রতি ১০ জনের মধ্যে চার জনের ক্ষেত্রে পাইলোনিডাল সাইনাস বারে বারে হয় ও দীর্ঘমেয়াদী নাছোড় উপসর্গের জন্ম দেয়। এক্ষেত্রে ব্যথার ধরণ ততটা তীব্র হয় না এবং এই সাইনাস থেকে পুঁজ বের হতে থাকে। পুঁজ বের হবার পর, সাইনাসের ভেতর চাপ কমে যায়, ফলে ব্যথা কমে আসে,। এতে সাময়িক স্বস্তিবোধ করায় রোগীরা অপারেশন করাতে বিলম্ব করে। তবে যেহেতু ইনফেকশন পুরোপুরি ভাল হয় না, এই ব্যথা ও পুঁজ থেকেই যায়, যা ক্ষনে ক্ষনে তীব্র হয়ে উঠতে পারে, যতক্ষণ পর্যন্ত না অপারেশন করা হচ্ছে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে দুই নিতম্বের মাঝের ভাঁজেই পাইলোনিডাল সাইনাস হয়ে থাকে। পাইলোনিডাল সাইনাসের চিকিত্সা পাইলোনিডাল সাইনাসের উপসর্গ দেখা দিলে, দেরি না করে একজন জেনারেল সার্জনের শরনাপন্ন হোন। যদি কোন উপসর্গ না থাকে তবে শেভ করা বা লোম নাশক ব্যবহারের মাধ্যমে অথবা অন্য পদ্ধতিতে আক্রান্ত স্থানটি লোম মুক্ত রাখার জন্য ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সচেতনতার উপদেশ দেওয়া হয়। যদি তীব্র ব্যথা ও পুঁজযুক্ত উপসর্গ থাকে তবে ইনফেকশন দমনে এন্টিবায়োটিক ও ব্যথা নিরসনে পেইনকিলার ওষুধ দেওয়া হবে, এছাড়াও জরুরী ভিত্তিতে অপারেশনের মাধ্যমে সাইনাসটিকে কেটে পাংচার করে পুঁজগুলো বের করে দেয়া হবে। দীর্ঘমেয়াদী পুনঃপুনঃ সমস্যা জনিত ক্ষেত্রে সাধারণতঃ সার্জনেরা অপারেশনের উপদেশই দিয়ে থাকেন। অপারেশনের ধারা প্রকৃতি সম্পর্কে সার্জনেরা আপনাকে সম্যুক ধারনা দেবেন। অপারেশন পরবর্তী সময়েও আক্রান্ত স্থানটি বরাবরের মতো লোম মুক্ত রেখে পরিচ্ছন্ন রাখা বাঞ্ছনীয় এতে পুনরায় পাইলোনিডাল সাইনাসে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি কমে আসে।