বিড়ি শ্রমিকদের দুর্দিন

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৩, ২১:৫৮
শুল্ক বৈষম্য আর সিগারেট কোম্পানির চক্রান্তে দেশের বিড়িশিল্প ধ্বংসের দ্বারে পৌঁঁছেছে। গত ১০ বছরে বন্ধ হয়ে গেছে ১১৩টি বিড়ি কারখানা। বেকার হয়ে পড়েছে প্রায় ২৫ লাখ শ্রমিক। কুটির শিল্প হিসেবে পরিচিত বিড়ি কারখানাগুলো চালু রাখা এবং লাখ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের জন্য নেয়া হয়নি কোন উদ্যোগ। যেকোন সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে যশোরের নাভারণের অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহত্ একটি বিড়ি কারখানা। বেকার হয়ে যেতে পারে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ শ্রমিক। আশংকা করা হচ্ছে, কারখানাটি বন্ধ হলে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারণে ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত। এই কারখানায় দুই হাজার শ্রমিক কর্মরত আছেন। এলাকার ২০ হাজার মানুষের রুটিরুজি এই কারখানার উপর নির্ভরশীল। প্রতিবন্ধী, গরিব, অসহায়, বিধবা, দুস্থ মহিলা ছাড়াও যারা কোনো কাজ করতে পারে না তারা এখানে বিড়ি তৈরি করে প্রতিদিন আয় করেন ২২০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা। কিন্তু হাতে তৈরি বিড়ি যন্ত্রে তৈরি সিগারেটের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। অন্যদিকে প্রতিবছরই বিড়ির উপর শুল্কহার বাড়ানো হচ্ছে। ২০০১-০২ অর্থবছরে বিড়ির শুল্ক ছিল ৩০ দশমিক ৯০ শতাংশ, ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে ৫০ দশমিক ৮৮ শতাংশ। বর্তমানে প্রায় ৬০ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্যঃ এ কারণে বিড়ি তৈরির ব্যবসা এখন অলাভজনক। ফলে একের পর এক বিড়ি কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ঝিকরগাছার প্রতিবন্ধী ইমাম হোসেন ঐ কারখানায় বিড়ি তৈরির কাজ করে প্রতিদিন ২৪০ টাকা আয় করেন। ইমাম বললেনঃ ‘আমি কোন শক্ত কাজ করতে পারি না। বসে বসে বিড়ি তৈরি করতে পারি। শুনেছি কর্তৃপক্ষ কারখানাটি বন্ধ করে দেবে। কারখানা বন্ধ হলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।’ নাভারণের অসহায় বিধবা রহিমা খাতুন ২৪ বছর বিড়ি তৈরি করছেন। তিনি বললেনঃ ‘বিড়ি তৈরি করে আমি দুই সন্তানকে লেখাপড়া শিখিয়েছি। এখন কারখানাটি বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের পথে বসতে হবে।’ কারখানার ম্যানেজার বললেনঃ ‘আমরা প্রতি মাসে কোটি টাকা সরকারকে শুল্ক দিই। তারপরও প্রভাবশালী একটি মহল সিগারেটের বাজার ধরার জন্য বিড়ি নিয়ে দীর্ঘদিন চক্রান্ত ষড়যন্ত্র করে আসছে। অন্যদিকে প্রতিবছর দফায় দফায় বৃদ্ধি করা হচ্ছে বিড়ির উপর শুল্ক। এজন্য মালিক কর্তৃপক্ষ এখন আর কারখানাটি চালু রাখতে চাচ্ছেন না। স্থানীয় গরিব লোকদের অনুরোধে কারখানাটি চালু রাখা হলেও যেকোন সময় তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।’