এলাকাবাসীর আর্থিক সহযোগিতা ও স্বেচ্ছাশ্রমে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের ধারাকান্দি গ্রামে সুরিয়া নদীর উপর নির্মিত ব্রিজটির কাজ অসমাপ্তই রয়ে গেল। ফাউন্ডেশন ও পিলারের কাজ শেষ করলেও অর্থাভাবে ছাদ(টপ স্লাব) নির্মাণ করতে না পাড়ায় বাঁশ-কাঠের ছাউনি দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি অথবা ধনাঢ্য ব্যক্তিদের একটু সহানূভুতিশীল সহযোগিতা পেলেই ব্রিজের পাটাতন হতে পারে।
গৌরীপুর উপজেলা সদর থেকে ধারাকান্দি গ্রামকে আলাদা করেছে সুরিয়া নদীটি। তাই এলাকার মানুষের সহজ যাতায়াতের জন্য নিজেরা নগদ অর্থ, স্বেচ্ছাশ্রম এবং গৃহবধূরা মুষ্টির চাউল দিয়ে সুরিয়া নদীর উপর প্রায় ৮০ফুট দীর্ঘ ব্রিজ নির্মাণ তহবিল যোগাড় শুরু করে। এতে শরিক হয়ে ধারাকান্দি গ্রাম থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত প্রতিটি মানুষ এক মাসের বেতন স্বেচ্ছায় প্রদান করে। গ্রামের প্রায় ২শতাধিক গৃহবধূ ৩বেলার খাবারের চাল থেকে এক মুষ্টি করে চাল মাটির হাঁড়িতে জমা রেখে সঞ্চিত চালও ব্রিজ নির্মাণ তহবিলে জমা দেয়। ঢাকায় কর্মরত ধারাকান্দি গ্রামের রাজমিস্ত্রী আব্দুল আলী, সিলেট ও বিভিন্ন স্থানে কর্মরত রড মিস্ত্রী হাবিবুর রহমান, সুলতান মিয়া, রিপন, গোপাল মিয়ারাও ছুটে এসেছেন ব্রিজ নির্মাণের কাজ করতে। গত ইরি-বোরো মৌসুমে ক্ষেতের ধান কাটা রেখেই প্রতিদিন ৩টি ভাগে বিভক্ত হয়ে গ্রামের ২শ’ ৫৬জন শ্রমিক কাজ করেন। গ্রামের আইনজীবী, প্রভাষক, শিক্ষক, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরাও লাজ-লজ্জা ভুলে শ্রম দেন। ভুটিয়ারকোনা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোহাম্মদ জিএম জানান, উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের ডিজাইন অনুযায়ী প্রায় ৩০লাখ টাকা ব্যয় ধরে কাজ শুরু করা হয়।
পুরুষ-মহিলা, যুবক, গ্রামের গৃহবধূ, কোমলমতি শিশু সবাই একাত্ম হয়ে যার যা কিছু আছে তাই নিয়েই শুরু করে ব্রিজ নির্মাণ। গ্রামের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আব্দুল হাকিম তালুকদার মাস্টারকে সভাপতি ও হাজী রিয়াজ উদ্দিন মাস্টারকে কোষাধ্যক্ষ করে সর্বজনের সম্মতিতে একটি কমিটি গঠিত হয়েছিল। তবে না ফেরার দেশে চলে গেলেন শিক্ষাবিদ আব্দুল হাকিম তালুকদার। তাই ব্রিজের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন কবে হবে এ নিয়ে বাড়ছে আশংকা। এ পর্যন্ত ব্রিজ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২২লাখ টাকা। সময়ের সাথে জিনিষপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় আরও প্রয়োজন ১৫ লাখ টাকা।
