মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিডি চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করলে বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. শফিক ইউনিয়ন পরিষদের চাউল রাখার একটি কক্ষ সিলগালা করেন।
জানা গেছে, উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নে মোট ১শ’ ৪৯টি ভিজিডি কার্ডধারী দুঃস্থদের জন্য তিন মাসের বরাদ্দকৃত প্রায় ১০ হাজার ৯শ’ ২ কেজি চাল স্থানীয় খাদ্যগুদাম থেকে ইউপি চেয়ারম্যান মো. লুত্ফর রহমান উত্তোলন করে ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে রাখেন। মঙ্গলবার উত্তোলনকৃত চাল বিতরণের নির্ধারিত দিন ছিল। দুঃস্থদের মাঝে চাউল বিতরণ শেষ হওয়ার পর ২৯ বস্তা চাল (১হাজার ৪শ’ ৫০ কেজি) অবশিষ্ট থাকায় স্থানীয় জনগণের মাঝে সন্দেহ জাগে। রাতেই জনসাধারণ উপজেলা প্রশাসনকে জানালে বুধবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস. এম. শফিক ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হয়ে চাল বিতরণের মাস্টার রোল জব্দ করে পরিষদের চাল রাখা হলরুমের কক্ষটি সিলগালা করে দেন।
এদিকে ইউনিয়ন পরিষদে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপস্থিত হলে কামারখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কিছু দলীয় লোকজন গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হয়ে ইউপি চেয়ারম্যানকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন।
ভিজিডি কার্ডধারী একাধিক দুঃস্থ জানান, প্রত্যেক কার্ডধারীকে প্রতি মাসে ২৪.৩৯ কেজি হারে তিন মাসে ৭৩.১৭ কেজি চাল দেয়ার কথা থাকলেও প্রতি কার্ডধারীকে তিন মাসের বরাদ্দের বিপরীতে ৬০ কেজি করে চাউল দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে কামারখালী ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিজিডির তদারকি কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জানান, লক্ষ্মীনারায়ণপুর স্কুলে নির্বাচন থাকায় চাল বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলাম না।
কামারখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো.লুত্ফর রহমান জানান, নির্ধারিত দিনে ২১ জনের চাল দেয়া সম্ভব হয়নি সেই চালই হলরুমে মজুদ রয়েছে।
