দৌলতদিয়ায় সংঘর্ষ :ফিরে গেলেন হেফাজত কর্মীরা

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:১৫
গতকাল বিকালে যশোর থেকে আসা প্রায় অর্ধশত গাড়ি বোঝাই হেফাজতে ইসলামের কর্মী ও সমর্থক রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছে ফেরি না পেয়ে সড়ক অবরোধ করে। এসময় স্থানীয় কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক ঢিল দিলে উত্তেজিত হেফাজতের কর্মী ও সমর্থকরা বেশ কয়েকটি গাড়ি ও অর্ধশত দোকান ভাঙচুর করে। এতে অন্তত ৬ জন আহত হন। পরে স্থানীয় কয়েক হাজার জনতার প্রতিরোধে তারা ফিরে যেতে বাধ্য হন। বিকালে প্রায় অর্ধশত বাস বোঝাই করে হেফাজতে ইসলামের দুই সহস্রাধিক কর্মী, সমর্থক দৌলতদিয়ায় পৌঁছে। তারা বিআইডব্লিউটিসির বুকিং কাউন্টারে গিয়ে ফেরি পারাপারের টিকিট চাইলে কাউন্টার থেকে তাদেরকে নিষেধ করে দেয়া হয়। এসময় উত্তেজিত হয়ে হেফাজতের কর্মীরা সড়কের উপর অবস্থান এবং জিকির করছিল। এসময় পিছন দিক থেকে কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল যুবক ইটের খোয়া ও লোহার টুকরো দিয়ে ঢিল ছোঁড়ে। এতে লংমার্চের প্রধান সমন্বয়কারী মাওলানা হামীদুল ইসলামের (৪৮) মাথায় লেগে জখম হলে মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার পরই উত্তেজিত হেফাজতে ইসলামের কমী-সমর্থকরা টার্মিনালে থাকা ৫/৬টি বাসের কাঁচ ভাঙচুর করে। একই সাথে টার্মিনাল এলাকার অন্তত অর্ধশত খাবার হোটেল, মুদি দোকানসহ প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান, স্থানীয় সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলীর ছবি সম্বলিত বিলবোর্ড, পোস্টার ভাঙচুর করা হয়। দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ি ঘেরাও করার চেষ্টা করে। সংবাদ পেয়ে পুলিশের পাশাপাশি, রাজবাড়ীর পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত ফোর্স এসে ঘাটে অবস্থান নেয়। হামলার খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে ঘাট ও আশপাশ এলাকার কয়েক হাজার মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে টার্মিনাল এলাকায় অবস্থান নেয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ সুপার মো. রেজাউল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার আহসান হাবীব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছরোয়ার হোসেন, ওসি আবুল বাসার ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মণ্ডলের সমন্বয়ে হেফাজতে ইসলামের সাথে সমঝোতা হয়। এ সময় হেফাজতের নেতারা তাদের হামলা ও জনগণের ক্ষয়ক্ষতি এবং ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। লংমার্চের প্রধান সমন্বয়কারী মাওলানা হামীদুল ইসলাম বলেন, আমরা সুষ্ঠুমতো ঘাটে পৌঁছে ফেরি পারাপারের টিকিট চাইলে স্থানীয় কয়েক যুবক মোটর সাইকেলে এসে কাউন্টার থেকে টিকিট বিক্রি নিষেধ করে দেয়। এরপরই আমাদের আর কোন টিকিট দেয়া হয়নি। এর প্রতিবাদে মহাসড়কে অবস্থান নিলে সরকার দলীয় কয়েক যুবক আমাদের অবস্থানের উপর খোয়া, লোহার টুকরো ছুঁড়ে মারলে আমিসহ অন্তত ৬ জন আহত হই। সমঝোতাকালে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা নূরুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা বিনা উস্কানিতে মহাসড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে যানবাহন, দোকানপাট ভাঙচুরসহ তাণ্ডবলিলা চালায়। এছাড়া তারা ফাঁড়ি ঘেরাওয়ের চেষ্টা করে। এতে এলাকাবাসীর ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ কারণে স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে সংঘবদ্ধভাবে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। গোয়ালন্দঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল বাসার বলেন, সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে হেফাজতের কর্মীরা পরিস্থিতিকে অশান্ত করার চেষ্টা চালায়। সংবাদ পেয়ে প্রায় ৫ প্লাটুন পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। পরে তারা ঘাট ছেড়ে যশোর ফিরে যান। বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক তানভির হোসেন জানান, ঘাটে ওই সময় গাড়ি না থাকায় ফেরিগুলো পাটুরিয়াতে ছিল। ফেরি পেতে দেরি হওয়ায় হেফাজতের কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে, তবে ফেরি বন্ধ রাখার কথা সঠিক নয়।