কক্সবাজারের চকরিয়ায় চৈত্রের প্রথম বৃষ্টিতে গতকাল শুক্রবার ভোরে পানিতে তলিয়ে গেছে মাঠে উত্পাদিত প্রায় ২৫ লাখ মণ লবণ। একদিকে দালাল-ফড়িয়া চক্রের অপতত্পরতায় চাষিরা লবণের সঠিক মূল্য পাচ্ছে না। অপরদিকে বৃষ্টির কারণে উত্পাদিত লবণ পানিতে ভেসে যাওয়ায় চাষিদের মাঝে নেমে এসেছে চরম হতাশা। এ অবস্থায় অনেক চাষি এ বছর দেনার খড়ক মাথায় নিয়ে দেউলিয়া হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। লবণ চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বৃষ্টির পানিতে তাদের প্রায় ৩০ কোটি টাকার লবণ ভেসে গেছে।
চকরিয়া উপজেলা লবণ ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি হারুনর রশিদ জানান, এ বছর উপজেলার বদরখালী, ডুলাহাজারা, খুটাখালী, চিরিংগা, পশ্চিম বড়ভেওলা ও ঢেমুশিয়া ইউনিয়নে ৭৬ হাজার একর জমিতে সনাতন পদ্ধতিতে লবণ চাষ করা হয়েছে। সমিতির হিসেব মতে ৪৪ হাজার চাষি এ বছর লবণ চাষ করেছে। তিনি আরো জানান, শুক্রবার ভোর রাতে চৈত্রের প্রথম বৃষ্টিপাত হওয়ায় চাষিরা মাঠে উত্পাদিত লবণ বৃষ্টির কবল থেকে রক্ষা করতে পারেনি। তিনি দাবি করেন, বৃষ্টিতে কম হলেও প্রতিজন চাষীর ৩০ থেকে ৪০ মণ লবণ পানিতে তলিয়ে গেছে।
গতকাল উপজেলার বেশ কটি ইউনিয়নে সরেজমিন দেখা গেছে, লবণ মাঠে একাধিক চাষি পলিথিন মুড়ানোর কাজ করছে। তারা মাঠে উত্পাদিত লবণ পলিথিন দিয়ে ঢেকে বৃষ্টির কবল থেকে রক্ষার প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছে। চকরিয়া উপজেলা লবণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো.শহিদ উল্লাহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, গতকালের এক পসলা বৃষ্টিতে উপজেলার ৪৪ হাজার চাষির প্রায় ৩০ কোটি টাকার লবণ পানিতে ভেসে গেছে।
