কারখানায় সিলিন্ডারে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করার সরকারি সিন্ধান্তে বিপাকে পড়তে যাচ্ছে প্রায় ১৫০০ তৈরি পোশাক কারখানা। এর ফলে এসব কারখানার উত্পাদন কার্যক্রম একেবারেই বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করে তৈরি পোশাক উত্পাদনকারী মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।
বৃহস্পতিবার সংগঠনের নেতারা তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার নওশাদ ইসলামের সাথে সাক্ষাত্ করে এর প্রতিকার চেয়েছেন। বিজিএমইএ’র সভাপতি আতিকুল ইসলাম প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, এটি করা হলে ১ হাজার ৫০০ পোশাক কারখানার উত্পাদন কার্যক্রম একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে। কর্মহীন হয়ে পড়বে এ শিল্পের প্রায় ১৫ লাখ শ্রমিক। তিনি বলেন, পোশাক শিল্পে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ ও গ্যাসের প্রেসার না থাকার কারণে এই কারখানাগুলো উত্পাদন কার্যক্রম চালু রাখার জন্য সম্পূর্ণরূপে সিএনজি গ্যাসের উপর নির্ভরশীল। গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার আগ পর্যন্ত এই শিল্পে সিলিন্ডারে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা চালু রাখার দাবি জানান তিনি।
উদ্যোক্তারা জানান, অনেক উদ্যোক্তা দীর্ঘদিন পূর্বে মেশিনারীজ আমদানি করে শিল্প প্রতিষ্ঠা করেছেন। কিন্তু গ্যাস সংযোগ না পাওয়ায় তারা এখন পর্যন্ত উত্পাদন কার্যক্রমে যেতে পারছেন না। অথচ ব্যাংকের সুদ যথারীতি পরিশোধ করতে হচ্ছে। এই কারখানাগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অনতিবিলম্বে গ্যাস সংযোগের দাবি জানানো হয়। এছাড়া পোশাক শিল্পে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাসের লোড বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত প্রেসারসহ নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা, হুট করে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ হয়রানি বন্ধ করাসহ কয়েকটি দাবি জানান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বর নাগাদ গ্যাস সংকট সমাধানে দৃশ্যমান অগ্রগতি হতে পারে। প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ’র দ্বিতীয় সহ-সভাপতি এস এম মান্নান কচি, সহ-সভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম, পরিচালক আরশাদ জামাল দিপু প্রমুখ।
